27
Table of Contents
বাংলাস্ফিয়ারঃ ভারত মহাসাগরের বুকে এক নির্জন দ্বীপকে ঘিরে ভারত সরকার যে স্বপ্ন দেখছে, তা এককথায় বিরাট। গ্রেট নিকোবর দ্বীপ, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত এই ৯১০ বর্গকিলোমিটারের ঘন বৃষ্টিঅরণ্য-আবৃত ভূখণ্ড’ একদিন সিঙ্গাপুর বা হংকংকে টক্কর দেবে, এই আকাঙ্ক্ষা নিয়েই জন্ম নিয়েছে গ্রেট নিকোবর উন্নয়ন প্রকল্প। কিন্তু স্বপ্নের এই প্রকল্প পরিবেশবিদ, আদিবাসী অধিকারকর্মী, ভূবিজ্ঞানী এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছে। প্রশ্নটা শুধু একটা বন্দর নির্মাণের নয়, প্রশ্নটা হল এই সংঘাতে কাকে মূল্য দিতে হবে এবং কতটা।
প্রকল্পের পরিকল্পনা: কী তৈরি হবে সেখানে
প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রাথমিকভাবে ৭৫,০০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ২০২৫ সালে সংশোধন করে ৮১,০০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। নীতি আয়োগ এই পরিকল্পনার জনক এবং রূপায়ণকারী সংস্থা হল আন্দামান এণ্ড নিকোবর আইল্যান্ডস ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন বা ANIIDCO।
প্রকল্পে রয়েছে ১৪.২ মিলিয়ন TEU ক্ষমতার আন্তর্জাতিক কন্টেনার ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল, একটি গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ৪৫০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ারের গ্যাস ও সৌরশক্তি চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ১৬,৬১০ হেক্টর জুড়ে পরিকল্পিত একটি নতুন নগর। প্রকল্পটি তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত — ২০২৫ থেকে ২০৩৫, ২০৩৬ থেকে ২০৪১, এবং ২০৪২ থেকে ২০৪৭ — মোট ১৬৬.১০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে, যার মধ্যে ১৩০.৭৫ বর্গকিলোমিটার বনভূমি।
প্রকল্পে রয়েছে ১৪.২ মিলিয়ন TEU ক্ষমতার আন্তর্জাতিক কন্টেনার ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল, একটি গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ৪৫০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ারের গ্যাস ও সৌরশক্তি চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ১৬,৬১০ হেক্টর জুড়ে পরিকল্পিত একটি নতুন নগর। প্রকল্পটি তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত — ২০২৫ থেকে ২০৩৫, ২০৩৬ থেকে ২০৪১, এবং ২০৪২ থেকে ২০৪৭ — মোট ১৬৬.১০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে, যার মধ্যে ১৩০.৭৫ বর্গকিলোমিটার বনভূমি।
ভূ-কৌশলগত যুক্তি: কেন এই দ্বীপ এত গুরুত্বপূর্ণ
ভারত সরকারের এই প্রকল্পের পেছনে কেবল অর্থনৈতিক হিসাব নয়, রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক গণনা। গ্রেট নিকোবর পূর্ব-পশ্চিম আন্তর্জাতিক শিপিং রুটের মাত্র ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত এবং সেখানে প্রাকৃতিকভাবেই ২০ মিটারেরও বেশি গভীর জলপথ রয়েছে।
২০২৫-২৬ সালের হিসাবে, চিনের তেল আমদানির ৮০ শতাংশেরও বেশি, যার বার্ষিক মূল্য প্রায় ৩১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার — মালাক্কা প্রণালীর মধ্য দিয়ে যায়, যেটির সংকীর্ণতম অংশের প্রস্থ মাত্র ২.৮ কিলোমিটার। গ্রেট নিকোবরে সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করলে ভারত শুধু এই চোকপয়েন্ট পর্যবেক্ষণই করবে না, বরং তাকে প্রভাবিত করার সক্ষমতাও অর্জন করবে।
গ্রেট নিকোবরের অবস্থান কলম্বো, পোর্ট ক্লাং এবং সিঙ্গাপুর — তিনটি থেকেই প্রায় সমদূরত্বে, যা ভারতকে আঞ্চলিক সমুদ্রবাণিজ্যের কেন্দ্রে বসিয়ে দিতে পারে। ভারতের সাবেক বায়ুসেনা প্রধান আর কে এস ভাদাউরিয়া এই উদ্যোগকে ইন্দো-প্যাসিফিকে ভারতের “সামরিক পদচিহ্ন” বিস্তারের জন্য অপরিহার্য বলে অভিহিত করেছেন।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও যুক্তি শক্তিশালী। ভারত বর্তমানে গভীরজলের বন্দরের অভাবে বৃহৎ পণ্যবাহী জাহাজগুলিকে বিদেশি বন্দরের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়, ফলে বিপুল রাজস্ব হারায়। কলম্বো, সিঙ্গাপুর বা ক্লাংয়ে ট্রান্সশিপমেন্ট না করে নিজস্ব বন্দর থেকে সরাসরি পরিষেবা দিতে পারলে ভারতের লজিস্টিক খরচ এবং বিদেশনির্ভরতা দুটোই কমবে, এটাই সরকারের প্রধান আর্থিক যুক্তি।
২০২৫-২৬ সালের হিসাবে, চিনের তেল আমদানির ৮০ শতাংশেরও বেশি, যার বার্ষিক মূল্য প্রায় ৩১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার — মালাক্কা প্রণালীর মধ্য দিয়ে যায়, যেটির সংকীর্ণতম অংশের প্রস্থ মাত্র ২.৮ কিলোমিটার। গ্রেট নিকোবরে সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করলে ভারত শুধু এই চোকপয়েন্ট পর্যবেক্ষণই করবে না, বরং তাকে প্রভাবিত করার সক্ষমতাও অর্জন করবে।
গ্রেট নিকোবরের অবস্থান কলম্বো, পোর্ট ক্লাং এবং সিঙ্গাপুর — তিনটি থেকেই প্রায় সমদূরত্বে, যা ভারতকে আঞ্চলিক সমুদ্রবাণিজ্যের কেন্দ্রে বসিয়ে দিতে পারে। ভারতের সাবেক বায়ুসেনা প্রধান আর কে এস ভাদাউরিয়া এই উদ্যোগকে ইন্দো-প্যাসিফিকে ভারতের “সামরিক পদচিহ্ন” বিস্তারের জন্য অপরিহার্য বলে অভিহিত করেছেন।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও যুক্তি শক্তিশালী। ভারত বর্তমানে গভীরজলের বন্দরের অভাবে বৃহৎ পণ্যবাহী জাহাজগুলিকে বিদেশি বন্দরের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়, ফলে বিপুল রাজস্ব হারায়। কলম্বো, সিঙ্গাপুর বা ক্লাংয়ে ট্রান্সশিপমেন্ট না করে নিজস্ব বন্দর থেকে সরাসরি পরিষেবা দিতে পারলে ভারতের লজিস্টিক খরচ এবং বিদেশনির্ভরতা দুটোই কমবে, এটাই সরকারের প্রধান আর্থিক যুক্তি।
বিরোধিতার কারণ: পরিবেশ
প্রকল্পের পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদানকালে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব মূল্যায়ন স্বীকার করেছে যে দ্বীপের স্থানীয় উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের উপর প্রকল্পের প্রভাব “অধিকাংশ ক্ষেত্রে অজানা।” তবু ২০২২ সালের নভেম্বরে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
সরকারের সংসদে দেওয়া উত্তর অনুযায়ী, প্রকল্পের বনভূমি অধিগ্রহণের ফলে প্রায় ৯ লক্ষ ৬৪ হাজার গাছ কাটা পড়বে। পরিবেশবিদদের অনুমান সংখ্যাটা এক কোটিও ছাড়াতে পারে। সরকারের প্রস্তাব হল উত্তর ভারতের ঝোপজঙ্গলে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন করে এই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া — কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাজার বছরের পুরনো গভীর বৃষ্টিঅরণ্যের জায়গায় অন্যত্র চারা লাগানো প্রকৃতির সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।
গালাথিয়া বে, যেখানে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরটি তৈরি হবে, সেটি লেদারব্যাক কচ্ছপের বাসা বাঁধার জায়গা। কুমির এবং হাজার হাজার প্রবালপ্রাচীর উপনিবেশকে দ্বীপের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সমুদ্রবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের স্থানান্তরে বাস্তুতন্ত্রের যে ক্ষতি হয় তা প্রায় কখনো পুনরুদ্ধারযোগ্য নয়।
গ্রেট নিকোবর বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ২০১৩ সালে ইউনেস্কোর ম্যান এণ্ড বায়োস্ফিয়ার (MAB) কার্যক্রমের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সেই মর্যাদাপ্রাপ্ত একটি বনের মধ্যে মেগা-শিল্প পরিকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংগঠনগুলি তীব্র ভাষায় নিন্দা করেছে।
সরকারের সংসদে দেওয়া উত্তর অনুযায়ী, প্রকল্পের বনভূমি অধিগ্রহণের ফলে প্রায় ৯ লক্ষ ৬৪ হাজার গাছ কাটা পড়বে। পরিবেশবিদদের অনুমান সংখ্যাটা এক কোটিও ছাড়াতে পারে। সরকারের প্রস্তাব হল উত্তর ভারতের ঝোপজঙ্গলে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন করে এই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া — কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাজার বছরের পুরনো গভীর বৃষ্টিঅরণ্যের জায়গায় অন্যত্র চারা লাগানো প্রকৃতির সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।
গালাথিয়া বে, যেখানে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরটি তৈরি হবে, সেটি লেদারব্যাক কচ্ছপের বাসা বাঁধার জায়গা। কুমির এবং হাজার হাজার প্রবালপ্রাচীর উপনিবেশকে দ্বীপের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সমুদ্রবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের স্থানান্তরে বাস্তুতন্ত্রের যে ক্ষতি হয় তা প্রায় কখনো পুনরুদ্ধারযোগ্য নয়।
গ্রেট নিকোবর বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ২০১৩ সালে ইউনেস্কোর ম্যান এণ্ড বায়োস্ফিয়ার (MAB) কার্যক্রমের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সেই মর্যাদাপ্রাপ্ত একটি বনের মধ্যে মেগা-শিল্প পরিকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংগঠনগুলি তীব্র ভাষায় নিন্দা করেছে।
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের সংকট
হয়তো সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্নটা মানবিক। দ্বীপে বর্তমানে শোম্পেন এবং নিকোবারিজ উপজাতি মিলিয়ে মোট ১,৭৬১ জন আদিবাসী মানুষ বাস করেন এবং দ্বীপের মোট আয়তনের প্রায় ৯২ শতাংশ উপজাতি সংরক্ষিত এলাকা হিসাবে চিহ্নিত। প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে দ্বীপের জনসংখ্যা ৮০ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে। এই মাত্রার জনতাত্ত্বিক রূপান্তর দ্বীপের সম্পদের উপর অপূরণীয় চাপ সৃষ্টি করবে এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দ্বীপে বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়গুলির সাংস্কৃতিক কাঠামো প্রায় নিশ্চিতভাবে মুছে দেবে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৩টি দেশের ৩৯ জন গণহত্যা বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছিলেন যে এই উন্নয়ন প্রকল্পটি শোম্পেনদের জন্য “মৃত্যুদণ্ড” এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসাবে গণহত্যার সমতুল্য হবে। শোম্পেনরা একটি বিচ্ছিন্ন, প্রায়-অসংযোগকৃত (uncontacted) জনগোষ্ঠী, বাইরের মানুষের সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে তাদের কোনো রোগ-প্রতিরোধক্ষমতা নেই। হাজার হাজার মানুষের আগমন তাদের সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
২০২৫-২৬ সালে নিকোবারিজ উপজাতীয় পরিষদ অভিযোগ করেছে যে প্রশাসন মিথ্যাভাবে সার্টিফাই করেছে যে সম্প্রদায়ের সম্মতি নেওয়া হয়েছে। একটি প্রাক্তন উপজাতীয় কল্যাণ কমিটির সদস্য (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেছেন, শোম্পেনদের বাসস্থানগুলি ঠিক যেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি প্রস্তাবিত হয়েছে, সেই এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে এবং জিও-ফেন্সিং তাদের স্বাধীন চলাফেরার অধিকার হরণ করবে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৩টি দেশের ৩৯ জন গণহত্যা বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছিলেন যে এই উন্নয়ন প্রকল্পটি শোম্পেনদের জন্য “মৃত্যুদণ্ড” এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসাবে গণহত্যার সমতুল্য হবে। শোম্পেনরা একটি বিচ্ছিন্ন, প্রায়-অসংযোগকৃত (uncontacted) জনগোষ্ঠী, বাইরের মানুষের সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে তাদের কোনো রোগ-প্রতিরোধক্ষমতা নেই। হাজার হাজার মানুষের আগমন তাদের সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
২০২৫-২৬ সালে নিকোবারিজ উপজাতীয় পরিষদ অভিযোগ করেছে যে প্রশাসন মিথ্যাভাবে সার্টিফাই করেছে যে সম্প্রদায়ের সম্মতি নেওয়া হয়েছে। একটি প্রাক্তন উপজাতীয় কল্যাণ কমিটির সদস্য (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেছেন, শোম্পেনদের বাসস্থানগুলি ঠিক যেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি প্রস্তাবিত হয়েছে, সেই এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে এবং জিও-ফেন্সিং তাদের স্বাধীন চলাফেরার অধিকার হরণ করবে।
ভূমিকম্প ও সুনামির ঝুঁকি
গ্রেট নিকোবর একটি বড় ভূমিকম্প চ্যুতিরেখার উপরে অবস্থিত। ২০০৪ সালের সুনামির কেন্দ্রটি এই দ্বীপ থেকে মাত্র ৮০ মাইল দূরে ছিল, যে সুনামিতে ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিলেন। সেদিন গ্রেট নিকোবরের দক্ষিণ অংশ প্রায় ১৫ ফুট নিচে দেবে যায়। এই ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে শত শত কোটি টাকার পরিকাঠামো নির্মাণ করা কতটা বিচক্ষণ, সেই প্রশ্ন উঠছে বারবার।
বাস্তব সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ
স্বপ্নের বিশালতার সঙ্গে বাস্তবের ব্যবধানও কম নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোর্টটি সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের মতো হয়ে উঠতে বহু দশক লাগবে। প্রথম পর্যায়ের নির্মাণ ২০২৮ সালে শেষ হবে বলে পরিকল্পনা থাকলেও সম্পূর্ণ উন্নয়ন ২০৫৮ সালের আগে হওয়ার নয়। এ পর্যন্ত কোনো বড় পোর্ট অপারেটর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। দ্বীপগুলি প্রত্যন্ত হওয়ায় জ্বালানি ও নির্মাণসামগ্রী বিমানে বা জাহাজে আনতে বিশাল খরচ পড়বে।
উপসংহার
গ্রেট নিকোবর প্রকল্প আসলে ভারতের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মৌলিক দ্বন্দ্বের প্রতীক। একদিকে ইন্দো-প্যাসিফিকে কৌশলগত আধিপত্য বিস্তার ও অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা; অন্যদিকে হাজার বছরের পুরনো বনভূমি, বিপন্ন সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র এবং প্রায়-অসংযোগকৃত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব। বিশ্লেষকরা বলছেন, সিঙ্গাপুরের মতো বিশাল বন্দরের লক্ষ্য না রেখে পর্যায়ক্রমিক মাঝারি আকারের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা, পর্যটন, মৎস্যচাষ ও নবায়নযোগ্য শক্তিভিত্তিক একটি ছোট এবং টেকসই উন্নয়নের পথে হাঁটলে ঝুঁকি অনেকটা কমতে পারে। কিন্তু দিল্লির রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই নরম পথে হাঁটতে রাজি কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।