মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার হুঁশিয়ারির মধ্যেই তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের খবর সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজ়াইকে চিঠি পাঠিয়েছেন। উদ্দেশ্য, দুই দেশের মধ্যে ফের আলোচনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা। তবে চিঠির উদ্দেশ্য নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের সঙ্গে মেলেনি।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, আলোচনার বার্তা

৩ নভেম্বর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশকেও সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ইরান ফের মার্কিন হামলার মুখে পড়তে পারে। তবে নতুন অভিযানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভান্সের চিঠিকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, চিঠিতে কোনও নির্দিষ্ট শান্তিচুক্তির শর্ত দেওয়া হয়নি। বরং দুই দেশের মধ্যে আলোচনার একটি কাঠামো তৈরি করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করাই ছিল মূল লক্ষ্য। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীঘ্রই মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠকের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সেই বৈঠকে আমেরিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পারেন ভান্স।

চিঠির উদ্দেশ্য নিয়ে ট্রাম্পের ভিন্ন বক্তব্য

তবে শান্তি আলোচনা শুরু করার উদ্যোগ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ভান্সের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগের বিষয়টি ছিল চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, অসুস্থ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের বিষয়েই যোগাযোগের অনুমতি দিয়েছিলেন তিনি। শান্তি আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন ট্রাম্প।

অন্য দিকে, অ্যাক্সিয়স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভান্সের চিঠিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন করে আলোচনা শুরু হলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তবে চিঠির সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আসেনি।

আলোচনায় কি বরফ গলবে?

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে তেহরানের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক পথে সমাধানের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য। একই সঙ্গে ইরান যে কোনও সামরিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত, সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

দুই দেশের মধ্যে আগের আলোচনাও স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি। জুনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভেস্তে যায়। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মতপার্থক্য আলোচনার পথে বাধা হয়ে রয়েছে।

এখন প্রশ্ন, নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগ কি সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত ঠেকাতে পারবে? এক দিকে আলোচনার উদ্যোগের খবর, অন্য দিকে নতুন হামলার হুঁশিয়ারি—ওয়াশিংটনের এই দুই বার্তার মধ্যে কোনটি শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পায়, তার উপরই নির্ভর করছে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ।