ধন্যবাদ, ব্রাজিল। আমাজনকে রক্ষার লড়াইয়ে নতুন করে আশা জাগানোর পাশাপাশি উগ্র দক্ষিণপন্থাকে কীভাবে নির্বাচনে পরাস্ত করা যায়, তারও দিশা দেখালে তুমি। এমন এক সময়ে, যখন প্রকৃতি ও গণতন্ত্র—দুই-ই নানা দিক থেকে আক্রান্ত, তখন বিশ্বদক্ষিণের এই শক্তিশালী দেশের ভোটার ও অরণ্যরক্ষীরা দেখিয়ে দিলেন, পরিস্থিতি বদলানো অসম্ভব নয়। আমেরিকা, স্পেন ও ফ্রান্সের মতো দেশে আগামী দিনে যেসব নির্বাচন হতে চলেছে, সেখানকার সামাজিক ও পরিবেশ আন্দোলনের কাছেও ব্রাজিলের এই অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা। শুধু অনুপ্রেরণাই নয়, নির্বাচনী লড়াই জেতার কার্যকর রণকৌশলও।
রবিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বে উগ্র দক্ষিণপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন তাঁর সমর্থকেরা। রাস্তায় নেমেছে জনতার ঢল। একই সঙ্গে এই জয় আনন্দিত করেছে বিশ্বের প্রকৃতিসংরক্ষণকর্মী, জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী এবং সামাজিক ন্যায়ের দাবিতে লড়াই করা মানুষদেরও।
আমাজন ও সেরাদো অঞ্চলে বন ও প্রাকৃতিক ভূভাগের ধ্বংস রেকর্ড পরিমাণে কমেছে বলে লুলা প্রশাসনের ঘোষণার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এল এই জয়। পরিবেশকর্মীদের আশা, ব্রাজিল এবার ২০৩০ সালের মধ্যে বননিধন শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে আরও জোরে এগোতে পারবে। পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর আন্তর্জাতিক উদ্যোগেও জোগাবে নতুন শক্তি। জলবায়ু স্থিতিশীল রাখা এবং বিপন্ন বাস্তুতন্ত্র রক্ষার যে বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টা ক্রমশ গতি হারাচ্ছে, তাতেও নতুন উদ্দীপনা তৈরি হতে পারে। বিশ্বদক্ষিণের নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তৈরি হতে পারে এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
তবে লড়াই এখনও অনেক বাকি। আমাজন অঞ্চলের নয়টি রাজ্যের মধ্যে সাতটিতে গভর্নর পদে জিতেছেন বলসোনারোর দলের উগ্র দক্ষিণপন্থী নেতারা। বহু পুরসভার মেয়র পদও তাঁদের দখলে। ব্রাজিলের কংগ্রেসেও এখন যথেষ্ট প্রভাব কৃষিবাণিজ্য ও খনিশিল্পের স্বার্থরক্ষাকারী গোষ্ঠীগুলির। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তাঁরাই রাজনৈতিক কর্মসূচির গতিপথ নির্ধারণ করেছেন। আদিবাসীদের জমিতে আরও বেশি খনিশিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের সুযোগ তৈরি, নতুন রাস্তা নির্মাণ, নদী বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া এবং পরিবেশ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করার জন্য তাঁরা লুলার উপর চাপ বাড়াবেন। এমনকি রাষ্ট্রপতিকে ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে সরানোর চেষ্টাও হতে পারে।
আঞ্চলিক রাজনীতিতেও কম চাপ নেই। দক্ষিণ আমেরিকার প্রধান দেশগুলির নেতাদের মধ্যে একমাত্র লুলাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ উদ্যোগে যোগ দেননি। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ চিন বা ইউরোপের কাছে বিক্রি না করে, কিংবা মাটির নীচে রেখে না দিয়ে, আমেরিকার দিকে পাঠানোর জন্য ওয়াশিংটন তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর পাশাপাশি রয়েছে বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্রমবর্ধমান বিপদ। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে আমাজন এমন এক বিপজ্জনক সীমার দিকে এগোচ্ছে, যা একবার পেরিয়ে গেলে অরণ্যকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।
অতএব, রবিবারের নির্বাচনী ফল আমাজন-সহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক অঞ্চলগুলিকে আপাতত কিছুটা স্বস্তি দেবে। কিন্তু ব্রাজিলের এই জয় থেকে পাওয়া আশা দ্রুত ফিকে হয়ে যেতে পারে, যদি অন্য দেশগুলির রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনেও তার প্রভাব না পড়ে। সেই কারণেই লুলার জয়ের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হয়তো শুধু ব্রাজিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং অন্য দেশের আন্দোলনকারীদের জন্য রেখে যাওয়া সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাতেই লুকিয়ে রয়েছে তার প্রকৃত মূল্য।
১. আগে রাজনীতি
উগ্র দক্ষিণপন্থাকে পরাস্ত করা এখন পরিবেশ রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কারণ, প্রাকৃতিক সম্পদের অবাধ লুণ্ঠনে আগ্রহী বিভিন্ন গোষ্ঠী—যাদের অনেকের বিরুদ্ধেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে—রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে উগ্র দক্ষিণপন্থী রাজনীতিকে হাতিয়ার করে। এর ফলে বিপন্ন হয় মানুষ, গণতন্ত্র এবং পরিবেশের সুরক্ষা।
জাইর বলসোনারোর ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের শাসনকালে আমাজনে বননিধন বেড়েছিল ৫৯.৫ শতাংশ। ব্রাজিলের কোনও রাষ্ট্রপতির চার বছরের মেয়াদে যা ছিল সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। অন্যদিকে, লুলার প্রশাসনের আমলে বননিধন কমেছে ৭১.২ শতাংশ। গত এক বছরে আমাজনের ৩,৩৩৫ বর্গকিলোমিটার বনভূমি হারিয়ে গিয়েছে। ১৯৮৮ সালে উপগ্রহের সাহায্যে বননিধনের হিসাব রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে এই পরিমাণই সর্বনিম্ন।
তবে লুলাকে একেবারে পরিবেশবান্ধব নেতা বলে ধরে নেওয়ারও কারণ নেই। তাঁর আমলেও বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ও পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য হল, তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে জানেন এবং সামাজিক আন্দোলনের বক্তব্য শুনতে আগ্রহী।
২. হাল ছেড়ো না
নির্বাচনের প্রথম দফায় পিছিয়ে পড়ার পর আর্থিক বাজার থেকে শুরু করে কয়েকটি জনমত সমীক্ষা—সব জায়গাতেই লুলাকে প্রায় হারিয়ে যাওয়া প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। এর আগে প্রথম দফায় পিছিয়ে থাকা কোনও প্রার্থী চূড়ান্ত পর্বে ফিরে এসে জিততে পারেননি। কিন্তু মাত্র তিন সপ্তাহে অতিরিক্ত এক কোটি ভোট নিজের দিকে টেনে সেই ধারণা বদলে দেন লুলা।
এই প্রত্যাবর্তনের শক্তি এসেছিল রাজপথ ও অরণ্য থেকে। সামাজিক আন্দোলনের সংগঠনগুলি শহরে শহরে বড় বড় সমাবেশ করেছে। আমাজনের আদিবাসী, নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা এবং কিলোম্বোলা জনগোষ্ঠীর মানুষ নৌকা কিংবা বাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনও দিনের পর দিন যাত্রা করে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছেছেন।
অর্থাৎ, শুধু জনমত সমীক্ষা বা নির্বাচনী অঙ্ক নয়, সংগঠিত মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও যে নির্বাচনের ফল বদলে দিতে পারে, ব্রাজিল তা দেখিয়েছে।
৩. গড়ে তোলো ডিজিটাল বাহিনী
প্রথম দফায় লুলার প্রচার ছিল অনেকটাই নিষ্প্রাণ, পুরনো ধাঁচের এবং রক্ষণাত্মক। পরিবেশ আন্দোলনের প্রচারেও প্রায়ই এই একই দুর্বলতা দেখা যায়। কিন্তু চূড়ান্ত পর্বে বদলে যায় কৌশল।
ফেডারেল পার্লামেন্টের সদস্য আন্দ্রে জানোনেস হোয়াটসঅ্যাপে ‘লুলার বাহিনী’ নামে একটি গোষ্ঠী তৈরি করেন। মজার মিম, সরাসরি সম্প্রচার এবং অ্যালগরিদমকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছনোর কৌশল নেয় এই ডিজিটাল বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে যে সমাজমাধ্যমের পরিসরে দক্ষিণপন্থীদের আধিপত্য ছিল, সেখানে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে শুরু করেন লুলার সমর্থকেরা।
ভোটের দিন আসতে আসতে এই বাহিনীর সদস্যসংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটি, যা মোট ভোটারের প্রায় ৮ শতাংশ। স্বেচ্ছাসেবকেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সমাজমাধ্যমে নানা কাহিনি, ছবি ও বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। এর ফলে লুলার প্রচারশিবির অনেক দ্রুত রাজনৈতিক পরিস্থিতির জবাব দিতে পেরেছে এবং ভোটারদের আবেগের কাছেও পৌঁছতে পেরেছে। বাহিনীর সদস্যদের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, বিরোধী শিবিরের কোনও পোস্ট শেয়ার করা যাবে না, এমনকি তার জবাবও দেওয়া যাবে না।
৪. মেটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মালিক সংস্থা মেটার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল লুলার প্রচারশিবির। তাদের অভিযোগ ছিল, সংস্থার অ্যালগরিদম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সরঞ্জাম বলসোনারোর প্রতি রাজনৈতিক পক্ষপাত দেখাচ্ছে। মেটা অবশ্য পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে। তবে প্রযুক্তিগত কিছু ত্রুটির কথা স্বীকার করেছিল। ব্রাজিলের নির্বাচনী আদালতও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
লুলা-সমর্থকদের জনপ্রিয় স্লোগানগুলির মধ্যে একটি ছিল বেশ কড়া ও অশ্লীল ভাষায় মেটাকে আক্রমণ করে। তার মূল বক্তব্য ছিল, ব্রাজিলের নির্বাচনে নাক গলানোর অধিকার কোনও প্রযুক্তি সংস্থার নেই।
বামপন্থীদের একাংশের অভিযোগ, আমেরিকার সমাজমাধ্যম সংস্থাগুলি দক্ষিণপন্থীদের মিথ্যা তথ্য ও আতঙ্ক ছড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে। কলম্বিয়া, চিলি ও পেরুর সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরাজয়ের ক্ষেত্রেও তাঁরা এই মাধ্যমগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। লুলা অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, ব্রাজিলে এমনটা হতে দেওয়া হবে না।
তাঁর বক্তব্য, ডিজিটাল মঞ্চের মাধ্যমে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়তে হবে এবং এই মঞ্চগুলিকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হবে। কোনও বহুজাতিক সংস্থা বিপুল অর্থ উপার্জন করবে, ব্রাজিলে কর দেবে না, অথচ দেশের নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে—এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না।
৫. পতাকার রং ফিরিয়ে নাও
আগের নির্বাচনে ব্রাজিলের জাতীয় পতাকার সবুজ, হলুদ ও নীল রং প্রায় বলসোনারোর রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। এবার সেই রঙের অধিকার ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন লুলা। জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পরে ছবি তুলে তিনি বোঝাতে চান, দেশের পতাকা কোনও একটি রাজনৈতিক দলের একার সম্পত্তি নয়।
একই সঙ্গে তাঁর ডিজিটাল বাহিনী শুরু করে নতুন প্রচার—‘সবুজ আর হলুদ আমাদের’।
ভোটের আগেই ব্রাজিল-সহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের লক্ষ লক্ষ মানুষ দেশের পতাকার রঙের পোশাক পরে সমাজমাধ্যমে নিজেদের ছবি ছড়িয়ে দেন। আমাজনের আদিবাসী নেতা থেকে হলিউডের তারকা, ইউরোপের বিখ্যাত ফুটবলার—অনেকেই এই প্রচারে যোগ দেন। ছবিতে তাঁদের অনেকের হাতেই দেখা যায় বুড়ো আঙুল ও কনিষ্ঠা মেলে ধরা বিশেষ ভঙ্গি, যা লুলার নামের আদ্যক্ষর ‘এল’-এর প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
৬. প্রকৃতির সঙ্গে মানুষেরও পাশে দাঁড়াও
আমাজন রক্ষার প্রতিশ্রুতি পরিবেশকর্মীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু লুলার বহু ভোটারের কাছে তাঁর জয়ের পিছনে আরও প্রত্যক্ষ কারণ ছিল অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি। রেকর্ড-নিম্ন বেকারত্ব, মজুরির বৃদ্ধি, দারিদ্র্য দূরীকরণের ‘বোলসা ফামিলিয়া’ প্রকল্পের ভাতা ১৫ শতাংশ বাড়ানো এবং ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
জলবায়ু ও প্রকৃতি রক্ষার লড়াইয়ের সঙ্গে সামাজিক ন্যায়কে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ব্রাজিলের পরিবেশ সংগঠনগুলি দীর্ঘদিন ধরেই তুলে ধরছে। সাধারণ মানুষের জীবিকা, আয় ও সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্ন থেকে পরিবেশের লড়াইকে আলাদা করে দেখলে সেই আন্দোলন জনসমর্থন হারাতে পারে।
ফ্রান্সের ২০১৮ সালের ‘জিলে জোন’ বা ‘হলুদ জ্যাকেট’ আন্দোলনও এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছিল। জ্বালানির উপর কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন দ্রুত বৃহত্তর অর্থনৈতিক অসন্তোষের রূপ নেয়। ফলে পরিবেশবান্ধব নীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আর্থিক বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
৭. সার্বভৌমত্বই শেষ কথা
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি বলসোনারো পরিবারের আনুগত্যের মধ্যে যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপদ লুকিয়ে রয়েছে, লুলা ও তাঁর সমর্থকেরা নির্বাচনী প্রচারে তা স্পষ্ট করে তুলে ধরেছিলেন। নির্বাচনের পর ফ্লাভিওর আমেরিকায় উড়ে যাওয়ার ঘটনাও সেই ঘনিষ্ঠতাকে ফের আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
ট্রাম্পের প্রতি বলসোনারো পরিবারের নতজানু অবস্থান, সংবিধান বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা এবং আমাজন-সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক অঞ্চলে অবাধ সম্পদ আহরণের প্রতিশ্রুতি—এই বিষয়গুলিকে একই রাজনৈতিক সূত্রে গেঁথে দেখিয়েছেন লুলার প্রচারকরা।
এর পিছনে রয়েছে আরও বড় একটি আন্তর্জাতিক প্রবণতা। পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাতটি প্রাকৃতিক নিরাপত্তাসীমা ইতিমধ্যেই অতিক্রম করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জলবায়ুকে অস্থিতিশীল করা, বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করা এবং বাতাস, মাটি ও নদী দূষিত করার মতো বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের অভিঘাত পড়ছে ক্রমশ বেশি মানুষের উপর।
ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণকারী সংস্থাগুলির পক্ষে নিজেদের কাজের জন্য সামাজিক সম্মতি আদায় করা কঠিন হয়ে উঠছে। তখন তারা কখনও আইন ভাঙার দিকে ঝুঁকছে, কখনও আবার এমন চরমপন্থী রাজনৈতিক শক্তিকে সমর্থন করছে, যারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও পরিবেশের সুরক্ষাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
জয়ের উৎসবের মধ্যে এই বিষয়গুলিকেই এক সূত্রে গেঁথেছিলেন ব্রাজিলের প্রাক্তন পরিবেশমন্ত্রী মারিনা সিলভা। তাঁর মতে, এই সমস্ত বিপদের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের মানুষ একজোট হয়েছেন।
তাঁর কথায়, ‘ব্রাজিলের প্রতিটি প্রান্ত থেকে উঠে এসে যাঁরা সামাজিক ন্যায়, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও স্থায়িত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ভবিষ্যতের আশার বীজ বুনেছেন, সেই জনগণের জয় হোক।’
ব্রাজিল দেখিয়েছে, শুধু প্রতিবাদ নয়, সংগঠন, রাজনৈতিক কৌশল এবং মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সঙ্গে পরিবেশের প্রশ্নকে যুক্ত করেও পরিবর্তন আনা সম্ভব। কাজের মধ্যে দিয়ে আশা তৈরির এই দৃষ্টান্ত এবার অন্য দেশগুলির আন্দোলনকারীরাও কতটা কাজে লাগাতে পারেন, সেটাই দেখার।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।