প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চিনের কমিউনিস্ট পার্টি ও সেনাবাহিনীর ভিতরে থাকা ‘গুরুতর গোপন বিপদ’ দূর করা হয়েছে। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, এমনই দাবি করলেন দলের এক শীর্ষ কর্তা। তার ঠিক আগের দিনই রেকর্ড ৩৩ জন পদস্থ ব্যক্তিকে বহিষ্কারের কথা নিশ্চিত করেছে চিনের কর্তৃপক্ষ।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন শি। এই সময়ের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর অভিযান চালিয়েছে তাঁর প্রশাসন। সেই অভিযানে শাস্তির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার আধিকারিক। ক্ষমতাশালী কেন্দ্রীয় কমিটির বহু সদস্যের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একের পর এক শীর্ষ কর্তাকেও সরানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, কেন্দ্রীয় কমিটির চার দিনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর সরকারি সংবাদমাধ্যম আরও ৩৩ জনকে বহিষ্কারের কথা নিশ্চিত করে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পলিটব্যুরোর প্রাক্তন সদস্য ঝাং ইউশিয়া। একসময় চিনের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার জেনারেল ছিলেন তিনি।
সরকারি সংবাদসংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে, অধিবেশনে ‘দলের সর্বাঙ্গীণ ও কঠোর পরিচালনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া’ সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দলীয় কর্মী ও পদাধিকারীদের মধ্যে দুর্নীতি কমানোও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য।
এই অভিযানের সমর্থকদের দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই শুদ্ধিকরণ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে নির্ধারিত পার্টি কংগ্রেসে শি যাতে নিজের শাসনের মেয়াদ আরও বাড়াতে পারেন, সেই পথ প্রশস্ত করাই এই পদক্ষেপগুলির উদ্দেশ্য।
কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা পরিদর্শন কমিশনের (সিসিডিআই) উপসচিব ঝাং ফুহাই শুক্রবার বলেন, ‘কমরেড শি জিনপিংকে কেন্দ্রে রেখে’ কেন্দ্রীয় কমিটি ‘দল, রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর ভিতরে থাকা গুরুতর গোপন বিপদ দূর করেছে’।
সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আরও বলেন, দলকে চালিত করেছে একটি বিশেষ কর্তব্যবোধ—‘১৪০ কোটি মানুষের আস্থা ভঙ্গ করার চেয়ে আমরা বরং কয়েক হাজার মানুষকে অসন্তুষ্ট করতে রাজি।’ চিনের জনসংখ্যার উল্লেখ করেই এই মন্তব্য করেন তিনি।
কয়েক মাস ধরে দুর্নীতির তদন্ত চলার পর তৎকালীন সর্বোচ্চ পদমর্যাদার জেনারেল ঝাং ইউশিয়াকে আগেই তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করা হয়, দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে তাঁকে।
শিনজিয়াংয়ের প্রাক্তন শীর্ষ কর্তা মা শিংরুইয়ের বহিষ্কারের কথাও নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বজনপোষণ, ঘুষ নেওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে যৌনসঙ্গ লাভ-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর আগেই তাঁকে সমস্ত পদ থেকে সরানো হয়েছিল।
ঝাং ফুহাই শুক্রবার জানান, ২০১২ সাল থেকে দেশের শৃঙ্খলা পরিদর্শন ও তদারকি সংস্থাগুলি মোট ৭৯ লক্ষ মানুষকে শাস্তি দিয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বিশেষ নজর দেওয়া হবে সেই সব ক্ষেত্রে, যেখানে ‘ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত, বিপুল অর্থের লেনদেন হয় এবং প্রচুর সম্পদ রয়েছে’।
তাঁর কথায়, ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা যেখানে পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে, সরকার ও ব্যবসায়িক মহলের যোগসাজশ যেখানে রয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিসরে পুঁজির অনুপ্রবেশ ঘটছে—সেই সব বিষয়ের তদন্তকে আমরা অগ্রাধিকার দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতির নতুন ধরন এবং আড়ালে থাকা দুর্নীতির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করব আমরা। তৃণমূল স্তরে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করে এমন অসদাচরণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধেও নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এই সপ্তাহের বৈঠকেই ঝাং শেংমিনকে পলিটব্যুরোয় উন্নীত করা হয়েছে। পলিটব্যুরো চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা। সেনাবাহিনীর ভিতরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন ঝাং শেংমিন। কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনে (সিএমসি) শি জিনপিংয়ের পরেই দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন তিনি।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।