এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংকে নিশানা করেছিলেন এমন এক চিনা গুপ্তচর, যাঁর সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল—মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এমনটাই মনে করছে।
অ্যালিস হুয়াং বা হুয়াং লে নামে ওই মহিলা সিঙ্গাপুরভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থা মেগাস্পিডের একজন শীর্ষকর্তা। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে তাঁর কোনও আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। এর আগে চিনে এনভিডিয়ার চিপ পাচারে জড়িত থাকার সন্দেহে মার্কিন আধিকারিকেরা তাঁর উপর নজরদারি শুরু করেছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র উদ্ধৃত করে একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই আধিকারিকেরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে অ্যালিস চিনা গোয়েন্দাদের হয়ে কাজ করছিলেন এবং বেজিংকে বাণিজ্যিক তথ্য সরবরাহ করছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নজরদারি চালানোর সময় মার্কিন আধিকারিকেরা জানতে পারেন, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে অ্যালিস হুয়াংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের অন্যতম ভিত্তি এনভিডিয়ার শক্তিশালী চিপ। এই সাফল্য জেনসেন হুয়াংকে প্রযুক্তি শিল্পের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতাদের একজন করে তুলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে আমেরিকার অগ্রণী অবস্থান ধরে রাখতে মার্কিন সরকার যখন তৎপর, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন হুয়াং।
ট্রাম্পের সঙ্গে জেনসেনের এই ঘনিষ্ঠতার কারণেই এনভিডিয়া কর্তার কাছে অ্যালিস হুয়াংয়ের সহজে পৌঁছতে পারার বিষয়টি হোয়াইট হাউসের আধিকারিকদের উদ্বিগ্ন করেছে।
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে চিনে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ রফতানির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মেগাস্পিডের হুয়াংয়ের বিরুদ্ধে সন্দেহ ছিল, এই বিধিনিষেধ এড়িয়ে চিপ সংগ্রহে তিনি চিন সরকারকে সাহায্য করছিলেন।
সংবাদসংস্থাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এনভিডিয়া অবশ্য জানিয়েছে, অ্যালিস হুয়াংয়ের সঙ্গে সংস্থার প্রধান নির্বাহীর যোগাযোগে অস্বাভাবিক কিছু ছিল না।
সংস্থার মুখপাত্র বলেন, “ক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা একজন প্রধান নির্বাহীর কাজেরই অংশ। জেনসেন প্রতি বছর হাজার হাজার ক্রেতা সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।”
মুখপাত্রের বক্তব্য, মেগাস্পিড এবং ওই ধরনের ক্রেতা সংস্থাগুলিকে “সাধারণ ব্যবসায়িক তথ্য দেওয়া হয়—এনভিডিয়ার স্পর্শকাতর বাণিজ্যিক গোপন তথ্য নয়। আর জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কোনও তথ্যই তাদের দেওয়া হয় না।”
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।