বাংলাস্ফিয়ার: ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেওয়ার পেছনে নিজের ভূমিকার দাবি করলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বড় পরাজয়ের আশঙ্কা এড়িয়ে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ফিরে আসার কৃতিত্ব তাঁর সমর্থনেরই ফল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ আরভিং জি. শোয়ার্টজ নামের এক ব্যক্তির মন্তব্য তুলে ধরে পোস্ট করেন ট্রাম্প। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, নির্বাচনের পূর্ববর্তী সব হিসাব-নিকাশ পুরোপুরি পাল্টে গেছে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানানোর পরই।

পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ‘বিবি’ নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়ালেন, তখনই নির্বাচনের মোড় ঘুরে যায়। যে নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর বড় ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল, ট্রাম্পের বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই সেখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস তৈরি হয়েছে। কেবল তা-ই নয়, পিছিয়ে থাকা অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনি ফের জয়ী হওয়ার মতো জায়গায় পৌঁছেছেন।” একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসাও তুলে ধরা হয় সেখানে।

এদিকে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের এই সাধারণ নির্বাচনে বিপুল জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে—যা ১৯৯৯ সালের পর থেকে দেশটিতে সর্বোচ্চ ভোটদানের হার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আবহই ভোটারদের বুথমুখী করেছে।

ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত তিনটি পৃথক বুথফেরত সমীক্ষার (এক্সিটি পোল) দুটিতে দেখা গেছে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোটের সঙ্গে নেতানিয়াহুর শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে। কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে তৃতীয় সমীক্ষা অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর দক্ষিণপন্থী জোট সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারে। সর্বশেষ প্রাথমিক ফলাফল এবং প্রাপ্ত আসন বিশ্লেষণেও ইঙ্গিত মিলছে যে, শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর দলই পার্লামেন্টে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।