আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হোরমুজ প্রণালীর কেশম (Qeshm) দ্বীপে ইরানের সামরিক কাঠামোর ওপর মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি বিমান ধ্বংসকারী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (anti-aircraft device) লক্ষ্য করে এই “ক্ষুদ্র আকারের কিন্তু সুনির্দিষ্ট” হামলা চালিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে তা সম্পূর্ণ অকেজো করে দিয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের সুজা এলাকায় পরপর দুটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হেনেছে। একই সাথে ইরানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের এয়ার ডিফেন্স ফোর্স উক্ত এলাকায় আমেরিকান একটি ‘MQ-9’ ড্রোন শনাক্ত করে তা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এই হামলার পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) পরিস্থিতি সম্পর্কিত তথ্যের জবাবে জানিয়েছে, অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে “আপাতত শান্ত”। পাশাপাশি, মধ্যরাতের এক বিশেষ নোটিশে সেন্টকম (CENTCOM) ঘোষণা করেছে, ইরানের পরমাণু কেন্দ্র, সরঞ্জাম বা এই সংক্রান্ত বিজ্ঞানীদের চলাচলের গোপন তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন প্রশাসন ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার দেবে।

একদিকে হামলা ও উত্তেজনার পারদ চড়লেও অন্যদিকে কূটনৈতিক সমঝোতার নতুন ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তেহরানের প্রতিনিধিদের সাথে ওয়াশিংটনের গোপন আলোচনা চলছে এবং উভয় পক্ষই কোনো চুক্তিতে আসতে আগ্রহী। ট্রাম্পের কথায়, “আমরা তাদের সাথে নিয়মিত কথা বলছি। তারা চুক্তি করতে চায় এবং আমরা ইরানের সাথে এই আলোচনায় অনেকটাই অগ্রগতি অর্জন করেছি।” কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি যাতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে দুই তরফেই কূটনৈতিক পদক্ষেপ জারি রাখা হয়েছে।