মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসন এবং পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে চরম অবস্থান নিল তেহরান। ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মহসেন রেজাই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান সরকারের দেওয়া ৭টি শর্ত আমেরিকা পুরোপুরি পূরণ না করা পর্যন্ত কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা হবে না এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী'ও (Strait of Hormuz) পুনঃউন্মুক্ত করা হবে না।

মস্কোর ক্রেমলিন প্রাসাদে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের প্রতিনিধি মহসেন রেজাই। ওই বৈঠকে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সায়েদ মোজতবা খামেনির বিশেষ বার্তা পুতিনের হাতে তুলে দেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রেজাই দাবি করেন, রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপের কড়া নিন্দা জানিয়েছে। তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট পুতিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ইরানের ওপর এই সামরিক হামলা সম্পূর্ণ অন্যায্য এবং এই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।" একই সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে রাশিয়া তার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সমস্ত সহায়তা করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন পুতিন।

ইরানি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার একমাত্র উপায় হলো তেহরানের ৭টি শর্ত মেনে নেওয়া। এর মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তেহরানের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি সত্যিই নিজেদের মনোভাব পরিবর্তন করতে চায়, তবে তাদের আগে এই সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন করে তা প্রমাণ করতে হবে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং যুদ্ধ পরবর্তী স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে রাশিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো দেশগুলির সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। বৈঠকে দুই দেশের যৌথ শক্তির পাইপলাইন প্রকল্প ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে আরও চাপে ফেলতে রাশিয়া ও ইরানের এই একসুরে অবস্থান আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি করেছে।