প্রায় দুই সপ্তাহের দীর্ঘ কূটনৈতিক ও কৌশলগত বিরতির অবসান ঘটিয়ে রাশিয়ার গভীরে অবস্থিত জ্বালানি পরিকাঠামোয় ফের জোরালো ড্রোন হামলা চালাল ইউক্রেন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নভোকুইবিশেভস্ক তেল শোধনাগারকে (Novokuybyshevsk Oil Refinery) লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। এই হামলার ফলে শোধনাগর চত্বরে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেখান থেকে বিশাল কুণ্ডলীতে আগুন ও কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

প্রতিবেদন সূত্রে প্রকাশ, মার্কিন প্রশাসনের কূটনৈতিক চাপের মুখে গত অক্টোবর মাসের মধ্যভাগ থেকে রুশ তেল শোধনাগারগুলিতে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছিল ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী। তবে সাম্প্রতিক এই হামলার মধ্য দিয়ে কিয়েভ তাদের সেই স্থগিতাদেশ ভেঙে ফের আক্রমণাত্মক কৌশলে ফিরে এল। উল্লেখ্য, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা রোসনেফ্ট (Rosneft)-এর মালিকানাধীন এই শোধনাগারটিতে বার্ষিক প্রায় ৮৮ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এখান থেকে পেট্রল ও ডিজেলের পাশাপাশি বিশেষভাবে জেট ফুয়েল বা বিমান জ্বালানি উৎপাদিত হয়, যা সরাসরি রুশ সামরিক বাহিনী বা বিমানবাহিনীর রসদ জোগাতে ব্যবহৃত হয়।

সামারা অঞ্চলের গভর্নর ব্যাচেস্লাভ ফেদোরিশেভ ড্রোন হামলার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও মোবাইল ফায়ার গ্রুপগুলি তৎপরতার সঙ্গে আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। এই ড্রোন হানার জেরে সামারা বিমানবন্দরের বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল সীমিত করা হয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার আর্থিক ভিত্তি দুর্বল করা এবং ফ্রন্টলাইনে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ইউক্রেন এই ধরনের কৌশলগত আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।