মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নিরাপত্তায় মোড়া অতি সংবেদনশীল গোপন সামরিক ঘাঁটিগুলির আকাশসীমায় আচমকাই দেখা মিলছে রহস্যময় ত্রিকোণাকার অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর (ইউএপি/ইউএফও)। আকাশে নিঃশব্দে ভেসে থাকা এবং অবিশ্বাস্য গতিতে দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম এই কালো ত্রিভুজ যান নিয়ে পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সরকারের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কিছু নথির বিবরণ সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সামরিক পর্যবেক্ষক ও গবেষকদের একাংশ রহস্যে মোড়া এই উড়ন্ত বস্তুর নাম দিয়েছেন ‘উড়ন্ত ম্যানড্রেক’।

সরকারি নথিপত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শী সামরিক কর্মীদের বিবরণ অনুযায়ী, পরিচিত কোনও যুদ্ধবিমান, স্টিলথ বোমারু বা ড্রোন প্রযুক্তির সঙ্গে এর গঠনের কোনও সাদৃশ্য নেই। সম্পূর্ণ কালো রঙের এই যানটি নিখুঁত ত্রিকোণাকার। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল এর চলাচল সম্পূর্ণ নিঃশব্দ—কোনও রকম ইঞ্জিনের আওয়াজ বা জেট প্রপালশনের ধোঁয়া ছাড়া এটি আকাশ চিরে তীব্র গতিতে ছুটে যেতে পারে, আবার মুহূর্তের মধ্যে মাঝ আকাশে গতি শূন্য করে এক জায়গায় স্থিরভাবে থমকে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। বর্তমান মানব সভ্যতার পরিচিত অ্যারোডাইনামিক্স বা বিমানবিদ্যার সমস্ত সাধারণ নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই বস্তু।

নথিতে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, মার্কিন পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার এবং বিমানবাহিনীর অতি গোপনীয় গবেষণা ঘাঁটিগুলির সংলগ্ন আকাশসীমায় এই রহস্যময় কালো ত্রিভুজ যানের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে। আধুনিকতম সামরিক রাডারগুলিতে কখনও এর আবছা উপস্থিতি নজরে আসছে, আবার পরক্ষণেই সমস্ত সংকেত এড়িয়ে নিমেষে দৃষ্টির বাইরে চলে যাচ্ছে এটি। দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত আকাশসীমায় এভাবে একটি অজ্ঞাত যান বছরের পর বছর ধরে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে অথচ তার উৎস শনাক্ত করা যাচ্ছে না—এই বিষয়টি মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অস্বস্তি চরমে তুলেছে।

এই রহস্যময় যান ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে মূলত দুটি তত্ত্ব উঠে আসছে। বিশেষজ্ঞদের এক দলের মতে, এটি হয়তো মার্কিন বিমানবাহিনীর চরম গোপনীয় কোনও ‘ব্ল্যাক প্রজেক্ট’-এর অংশ, যা অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি বা অত্যাধুনিক শক্তির সাহায্যে পরিচালিত হয়। কিন্তু পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগের নথি উল্টো কথাই বলছে; কারণ খোদ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাই এই বস্তুগুলির গতিবিধি নিয়ে অন্ধকারে রয়েছে। ফলে অন্য দলটির আশঙ্কা, এটি কি প্রতিপক্ষ কোনও দেশের চরম পরাক্রমশালী গুপ্তচর প্রযুক্তি, নাকি সত্যিই পৃথিবীর বাইরের কোনো উন্নত সভ্যতার অস্তিত্বের প্রমাণ? নিশ্চিত উত্তরের খোঁজে এখনো ঘাম ছুটছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সামরিক বাহিনীর।