মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দিলেন পোপ লিও। পোপতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত পোপ রাজনৈতিক নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন বলে দাবি।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিলেন পোপ লিও। ইতিহাসে এই প্রথম কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত পোপ কোনও রাজনৈতিক নির্বাচনে ভোট দিলেন বলে জানা যাচ্ছে। শুক্রবার ভ্যাটিকানের তরফে জানানো হয়েছে, নিজের জন্মশহর শিকাগোয় ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান।

বিভিন্ন ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক বার সংঘাতে জড়িয়েছেন লিও। গত বছর পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর ক্যাথলিক চার্চের প্রথম আমেরিকান প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি।

ভ্যাটিকানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিক হিসেবে যখনই ভোট দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তখনই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন লিও। মিশনারি হিসেবে দীর্ঘদিন পেরুতে থাকার সময়ও ভোট দিয়েছেন তিনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নাগরিকদের অধিকার এবং কর্তব্য—এই বিশ্বাসই বরাবর তুলে ধরেছেন পোপ।

পোপ নির্বাচিত হওয়ার আগে লিওর নাম ছিল রবার্ট প্রিভোস্ট। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যালট চেয়ে আবেদন করেন তিনি। ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্তির সময় ইলিনয়ের নিউ লেনক্সের একটি ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন।

এর মাত্র দশ দিন পরেই তাঁর ডান ফুসফুস থেকে ক্যানসারযুক্ত টিউমার অপসারণের অস্ত্রোপচার হয়। ১৭ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরছেন পোপ।

আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগেই পোপের ভোটদানের খবর নতুন করে আলোচনায় এনেছে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে।

ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরোধিতা করে আগেই সরব হয়েছিলেন লিও। এই নীতিকে ‘অমানবিক’ বলেও আক্রমণ করেছিলেন তিনি। চলতি বছরের গোড়ায় ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক অভিযানেরও সমালোচনা করেন পোপ। তার পরেই তাঁকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন ট্রাম্প। পোপকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ এবং ‘বিদেশনীতি বোঝার ক্ষেত্রে ভয়াবহ’ বলে কটাক্ষ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকি তাঁর দাবি ছিল, ট্রাম্প নিজে হোয়াইট হাউসে রয়েছেন বলেই লিও পোপ নির্বাচিত হয়েছেন।

ট্রাম্পের সেই আক্রমণের জবাবে লিও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘ভয় পান না’।

আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের আড়াইশো বছর পূর্তির আগে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া তাঁর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ভাষণেও অভিবাসন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন পোপ। অভিবাসীদের স্বাগত জানানোর মার্কিন ঐতিহ্যের প্রশংসা করার পাশাপাশি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে তুলে ধরা আদর্শ মেনে চলার আহ্বান জানান আমেরিকানদের। তাঁর সেই বক্তব্যকেও ট্রাম্পের নীতির প্রতি পরোক্ষ কটাক্ষ হিসেবে দেখেছিলেন অনেকে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে একটি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের জন্মভূমি আমেরিকার প্রতি ‘গভীর ভালোবাসা’র কথা জানিয়েছিলেন লিও। স্বাধীনতা, সুযোগ এবং অভিবাসীদের স্বাগত জানানোর মতো মার্কিন মূল্যবোধের প্রতিও তাঁর অনুরাগের কথা তুলে ধরেন। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, তাঁর আমেরিকান পরিচয় আসলে ‘ঘটনাচক্র মাত্র’।

নভেম্বরে লাতিন আমেরিকা সফরে যাওয়ার কথা পোপের। এগারো দিনের এই সফরে দশটি শহরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে, ভ্যাটিকানের বিদেশমন্ত্রী আর্চবিশপ পল রিচার্ড গ্যালাঘার চলতি সপ্তাহে রোমের বিদেশি সংবাদদাতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে জানিয়েছেন, খুব দূর ভবিষ্যতে নয়, পোপের আমেরিকা সফরও প্রত্যাশিত।

তবে সেই সফর ২০২৭ সালে হবে, নাকি তারও পরে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গ্যালাঘারের মতে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলও পোপের আমেরিকা সফরের সময় নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।