বিশ্ব বাণিজ্যের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (US) সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্য সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটতে পারে। আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াং (Ernst & Young বা EY)-এর প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আগামী দিনে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে, ভারত থেকে রপ্তানি যদি বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায় এবং বিপরীতে আমেরিকা থেকে পণ্য আমদানি ১৬ শতাংশ হারে বাড়ে, তবে ২০৩১ সালের মধ্যে আমেরিকার সাথে ভারতের পণ্য বাণিজ্য উদ্বৃত্ত (Trade Surplus) বর্তমান ২০২৫ সালের মাত্রার প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষক সংস্থা ইওয়াই-এর প্রতিবেদনে ভারতের সামগ্রিক বৈদেশিক বাণিজ্যের এক কেন্দ্রীয় ও সংবেদনশীল চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের হিসেবে বাণিজ্য উদ্বৃত্তের দিক থেকে আমেরিকার বাজার ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় উৎস, যা মোট বাণিজ্যের প্রায় ৩৩.৮ শতাংশ অংশজুড়ে রয়েছে। মূলত ইলেকট্রনিক্স, ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী এবং ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য রপ্তানির ওপর ভিত্তি করেই ভারতের এই বিপুল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে, চীনের সাথে ভারতের বাণিজ্য কেবল বিপুল ঘাটতি (Trade Deficit)-ভিত্তিক। ইওয়াই উল্লেখ করেছে যে, অতিরিক্ত মাত্রায় মার্কিন বাজারের ওপর বাণিজ্য উদ্বৃত্তের জন্য নির্ভরশীল হওয়া ভারতকে আমেরিকার অসংলগ্ন শুল্কনীতি বা ট্যারিফ বৃদ্ধির ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, বাণিজ্য নীতি এবং মার্কিন শুল্ক আঘাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে ২০৩১ অর্থবছরের মধ্যে ভারতের উচিত পণ্য ও পরিষেবা মিলে যৌথ বাণিজ্য উদ্বৃত্তকে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ হ্রাস করার কৌশল নেওয়া। এর জন্য আমেরিকা থেকে প্রয়োজনীয় ও প্রযুক্তিগত পণ্যের আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি চীনে রপ্তানি বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের মাধ্যমে চীনা পণ্য আমদানি কমানোর (Import Substitution) ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন। কেবল এই ভারসাম্য বজায় রাখলেই ভারত বাণিজ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করছে ইওয়াই।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।