শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি ও ভিডিয়ো সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কলের বাবা থমাস মার্কল। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ফ্লরিডায় তাঁকে গ্রেফতার করেন মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এজেন্টরা। মেগানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন।
তদন্ত সম্পর্কে অবহিত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে এপি জানিয়েছে, ফ্লরিডার ট্যাম্পার কাছে মার্কলকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
ফিলিপিন্সের সেবু শহরে মার্কলের পুরনো বাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল যন্ত্রপাতিতে শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি-ভিডিয়ো রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই বিষয়ে তদন্ত চলার মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করা হল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়িটি খালি করার সময় তাঁর ছেলে থমাস মার্কল জুনিয়র কয়েকশো, সম্ভবত কয়েক হাজার ছবি দেখতে পান। এর পর তিনি ফিলিপিন্সের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান এবং মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ফিলিপিন্সের পুলিশ ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণের যন্ত্রগুলি পরীক্ষা করে। সে দেশের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা কয়েক হাজার ছবি এবং একটি ভিডিয়ো উদ্ধার করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, এই ধরনের উপাদান পাওয়া গিয়েছে বলেই সেগুলি কার দখলে ছিল, কে তৈরি করেছে অথবা কে ছড়িয়েছে, তা প্রমাণিত হয় না। স্কাই নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপাদানগুলির উৎস এবং দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় নির্ধারণের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
থমাস মার্কল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কোনও অপরাধে তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার নথি সিলবন্দি থাকায় তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
খবর অনুযায়ী, অভিযোগগুলিকে ‘বিকৃত মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দিয়ে মার্কল বলেছেন, “আমি জীবনে কখনও এ রকম কিছু ডাউনলোড করিনি।”
এই ঘটনায় ফিলিপিন্স, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য—তিনটি দেশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ৫ নভেম্বর থমাস মার্কল জুনিয়রকেও ‘পার্সন অব ইন্টারেস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়—অর্থাৎ তদন্তের স্বার্থে তাঁর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, কীভাবে ওই ছবি-ভিডিয়ো নজরে এল, সেগুলি কার দখলে থাকতে পারে এবং এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না। ফিলিপিন্সের কর্তৃপক্ষকে তদন্তে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে এফবিআই।
বাবার পুরনো বাড়িতে শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি পাওয়ার অভিযোগে তিনি ‘গভীরভাবে বিচলিত’ বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন মেগান মার্কল।
এক বিবৃতিতে ডাচেস অব সাসেক্স আরও জানান, তাঁর বাবার বিরুদ্ধে ‘উদ্বেগজনক ও বিচলিত করার মতো অভিযোগ’ সংবলিত একটি চিঠি ২০১৮ সালে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরে সেই চিঠি তাঁকেও দেখানো হয়। মেগানের বক্তব্য, ওই অভিযোগগুলি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব নিয়েও মুখ খুলেছেন মেগান। তিনি জানিয়েছেন, নিজের এবং তাঁর দুই সন্তান—প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটের—সুরক্ষার কথা ভেবেই বাবাকে তাঁদের থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
মেগান বলেন, “আশা করি, এ বার বোঝা যাবে যে বছরের পর বছর কিছু সংবাদমাধ্যম বিষয়টিকে বিকৃতভাবে তুলে ধরলেও, বাবার সঙ্গে আমার দূরত্ব এবং আমাদের সন্তানদের সঙ্গে তাঁকে যোগাযোগ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ ছিল একটিই—ওদের সুরক্ষিত রাখা।”
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।