নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের কঠিন ও আকর্ষণীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নেওয়ার পর ভারতীয় দলের সামগ্রিক কৌশল এবং মানসিকতা নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও জোরালো অবস্থান নিলেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর. সিরিজের পঞ্চম তথা শেষ ম্যাচে হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে কিউইদের কাছে ৭ উইকেটে হারতে হলেও, পুরো সিরিজ জুড়ে দল যে আক্রমণাত্মক এবং ভীতিহীন ব্র্যান্ড অফ ক্রিকেট খেলেছে, তার পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীর সাফ জানিয়ে দেন যে, আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল হতে হলে দলের অন্দরে বা ডাগআউটে ভয়ের বিন্দুমাত্র কোনো জায়গা থাকতে পারে না।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গম্ভীর অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, তাঁর নিজস্ব ক্রিকেটীয় অভিধানে ‘ডর’ বা ভয়ের কোনো শব্দ বা স্থান নেই। বিগত দুই থেকে আড়াই বছর ধরে টিম ইন্ডিয়া যে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অথচ উচ্চ পুরস্কারের (High-risk, high-reward) নীতিতে ক্রিকেট খেলে আসছে, সেই পথ থেকেই দল বিন্দুমাত্র সরে দাঁড়াবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধান কোচ। তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেছেন যে, এই আক্রমণাত্মক পথ অনুসরণ করতে গিয়ে দল হয়তো ভবিষ্যতেও কিছু ম্যাচ হারবে, এমনকি কখনও একপেশেভাবে পরাজয়ের মুখোমুখিও হতে পারে; কিন্তু এর ফলে দলের মৌলিক ক্রিকেটীয় দর্শন বা আক্রমণাত্মক মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।

শেষ ম্যাচে টিম সাইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের মুখে পড়ে ভারত ১৯১ রানের লড়াকু পুঁজি ডিফেন্ড করতে ব্যর্থ হয়। তবে এই হারকে বড় করে না দেখে বরং পুরো সিরিজের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেছেন গম্ভীর। বিশেষ করে, মাত্র ১৫ ঘণ্টার ভ্রমণক্লান্তি এবং মাত্র একটি অনুশীলন সেশনের ওপর ভর করে যেভাবে দল প্রথম ম্যাচ জিতেছিল এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তরুণরা দায়িত্ব নিয়ে দলকে পার করিয়েছিল, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচে দল একটু বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলেও, এই লার্নিং বা শিক্ষা দলের ভবিষ্যৎ যাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে বিশ্বাস গম্ভীরের। একইসঙ্গে, বিদেশি কন্ডিশনে খেলার সময় ফ্লাডলাইটের তলায় ফিল্ডিং বা অন্যান্য যেসব ছোটখাটো দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে, সামনের ওডিআই সিরিজের আগে সেই জায়গাগুলোতে বাড়তি মনোযোগ দিয়ে দল আরও শানিত হয়ে উঠবে বলে বার্তা দিয়েছেন ভারতীয় দলের এই হেড কোচ।