ভোটারদের দেওয়া রায়কে মাঝপথে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিধায়কদের হঠাৎ ইস্তফা, দলবদল এবং তার জেরে সাধারণ মানুষের করের টাকায় বারবার উপনির্বাচন করার প্রবণতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ পেল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। রাজনৈতিক স্বার্থে পদ ছেড়ে শাসকদলে যোগ দেওয়া এবং সরকারি কোষাগারের অর্থ খরচ করে পুনরায় উপনির্বাচনে লড়াই করার বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলায় কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহির নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, ভারতের নির্বাচন কমিশন, তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং বিধানসভার সচিবকে আনুষ্ঠানিক নোটিস পাঠিয়েছে।

ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এআইএডিএমকে (AIADMK)-র ছয়জন বিধায়ক ইস্তফা দিয়ে শাসকদল ‘তমিলগা বেট্‌ট্রি কজ়গম’ (TVK)-এ যোগ দেন। সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় স্পিকার তাঁদের পদ খারিজ করার আগেই তাঁরা দ্রুত ইস্তফা দেন এবং পরবর্তীতে শাসকদলের টিকিটে ওই শূন্য আসনগুলিতেই উপনির্বাচনে লড়ার টিকিট পান। মাদ্রাজ হাই কোর্টে এই ঘটনার বিরুদ্ধে মামলা খারিজ হওয়ার পর আইনজীবী কে সুথান সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী মার্লিন র‍্যাচেল জে সওয়াল করে জানান, বিধানসভার আসনটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, তা জনগণের দেওয়া আমানত।

আবেদনে এই ধরনের উপনির্বাচনকে ‘বিলাসবহুল নির্বাচন’ (Luxury Election) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনো জনপ্রতিনিধির আকস্মিক মৃত্যু বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে এই নির্বাচন হচ্ছে না; কেবল রাজনৈতিক দলবদলকে বৈধতা দিতেই সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থ অপচয় করা হচ্ছে। এর ফলে একই আসনের ভোটারদের দু’বার খরচের বোঝা বহন করতে হচ্ছে এবং আইনসভার বাজেট অধিবেশন চলাকালীন ওই কেন্দ্রগুলির জনগণের কণ্ঠস্বরও রুদ্ধ থাকছে।

সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা পিটিশনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, যদি স্পিকারের অযোগ্য ঘোষণার আগেই বিধায়কেরা এভাবে ইস্তফা দিয়ে ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে আবারও উপনির্বাচনে জিতে আসেন, তবে সংবিধানের দশম তফসিল অচিরেই একটি অকার্যকর আইনে পরিণত হবে। শীর্ষ আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আর্থিক দিকটি খতিয়ে দেখতে নোটিস জারি করায় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন এক চর্চা শুরু হয়েছে।