সুলতানপুর:
২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে করা একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মানহানি মামলা থেকে কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) সম্পূর্ণ বেকসুর খালাস করল উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের একটি বিশেষ আদালত। সোমবার কড়া নিরাপত্তার বলয়ে আদালত চত্বরে হাজিরা দেন রাহুল গান্ধী, আর তার পরেই বিচারক এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, অভিযোগকারী বিজেপি নেতা সরাসরি এই মামলার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নন এবং রাহুল গান্ধীর সেই মন্তব্য মানহানিকর ছিল না।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মে মাসে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের বিরুদ্ধে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। সেই সময় সুলতানিপুরের স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা দলের প্রাক্তন সহ-সভাপতি বিজয় মিশ্র এই মানহানির মামলাটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং বিচারপ্রক্রিয়া শেষে সোমবার সুলতানপুরের এমপি-এমএলএ (MP-MLA) আদালতে এই মামলার রায়দান সম্পন্ন হয়।
রাহুলের আইনজীবী কাশী প্রসাদ শুক্লা আদালতের রায়ের পর সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান যে, আদালত তাঁর মক্কেলকে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্ত ঘোষণা করেছে। রায় ঘোষণার পরপরই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালত চত্বর ত্যাগ করেন কংগ্রেস সাংসদ।
অন্যদিকে, অভিযোগকারী বিজয় মিশ্রের আইনজীবী সন্তোষ পাণ্ডে জানান, বিচারক মূলত তিনটি মূল বিষয় বিবেচনা করে এই রায় দিয়েছেন। প্রথমত, অভিযোগকারীর জমা দেওয়া ভয়েস রেকর্ডিংয়ের সিডিটি আসল কি না; দ্বিতীয়ত, অভিযোগকারী নিজে এই ঘটনায় সরাসরি সংক্ষুব্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কি না; এবং তৃতীয়ত, সংশ্লিষ্ট বক্তব্যটি আদৌ মানহানিকর কি না। আদালত সিডিটি আসল বলে মনে করলেও বাদীপক্ষকে সরাসরি ‘ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি’ হিসেবে গণ্য করেনি এবং মন্তব্যটিকে মানহানিকর বলে মনে করেনি। ফলে অভিযোগ খারিজ করে রাহুল গান্ধীকে অব্যাহতির নির্দেশ দেন বিচারক। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবীরা।