লখনউ:
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সুলতানপুর সফর চলাকালীন তাঁর কনভয়ের পেছনে থাকা একাধিক গাড়ি একে অপরের পেছনে ধাক্কা মারার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। সোমবার রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক (DGP) রাজীব কৃষ্ণের নির্দেশে এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে এবং সুরক্ষায় কোনো বড়সড় গলদ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) বা বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকালে, যখন রাহুল গান্ধী লখনউয়ের চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সড়কপথে সুলতানপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে তাঁর কনভয়ের পেছনে থাকা কংগ্রেস নেতাদের চারটি ব্যক্তিগত গাড়ি আচমকা একটি গাড়ি কড়া ব্রেক কষায় একে অপরকে সজোরে ধাক্কা মারে। সুলতানপুরের পুলিশ সুপার বিনীত জয়সওয়াল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় গাড়িগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সৌভাগ্যবশত কেউ আহত হননি। সামান্য কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর গাড়িগুলি ফের সুলতানপুরের দিকে যাত্রা শুরু করে।
এই দুর্ঘটনার পরই সুরক্ষার প্রশ্ন তুলে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সদর দফতর থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়। লখনউ রেঞ্জের পুলিশ পরিদর্শক (IG) কিরণ এস-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই এসআইটি গঠন করা হয়েছে। দলের অন্য দুই সদস্য হলেন সুলতানপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ব্রিজ নারায়ণ সিং এবং ট্র্যাফিক বিভাগের ডেপুটি পুলিশ সুপার রামকৃষ্ণ চতুর্বেদী। এই কমিটি ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা, পাইলট ও এসকর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কোনো অবহেলা বা সিকিউরিটি ল্যাপস ছিল কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে অতি দ্রুত সদর দফতরে রিপোর্ট জমা দেবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে এক মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মানহানি মামলায় সুলতানপুরের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে হাজিরা দিতে যাচ্ছিলেন রায়বেরেলির সাংসদ রাহুল গান্ধী। কড়া নিরাপত্তার বলয়ে আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর আদালত এই মামলা থেকে তাঁকে সম্পূর্ণরূপে বেকসুর খালাস করে। আদালত স্পষ্ট জানায়, অভিযোগকারী বিজেপি নেতা এই মামলায় প্রত্যক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নন এবং রাসুল গান্ধীর মন্তব্য মানহানিকর ছিল না। আদালতের পক্ষ থেকে স্বস্তির বার্তার মাঝেই এই কনভয় দুর্ঘটনা ও সিট গঠন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।