দিল্লির ঐতিহাসিক জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে পরিস্থিতি ও ছাত্র বিক্ষোভের আবহে আবার কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন বর্ষীয়ান বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এক তীব্র ক্ষোভের ভিডিও বার্তায় তিনি দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা, গণতন্ত্রের ক্ষয়িষ্ণু অবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। কয়েকদিন আগেই দিল্লির ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদীদের একাংশকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সেই মন্তব্যকে অস্ত্র করেই নিজেকে ‘গর্বিত দিমাগি নকশাল’ বলে ঘোষণা করলেন নাসিরুদ্দিন।

২০০৬ সাল থেকে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় বন্ধ থাকা ছাত্র সংসদ নির্বাচন পুনরায় চালুর দাবিতে বিগত বেশ কিছুদিন ধরে ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। তাঁদের এই গণতান্ত্রিক লড়াইকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে অভিনেতা বলেন, “আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গেই বলছি যে আমি একজন দিমাগি নকশাল! আমাদের মতো মানুষদের চিহ্নিত করতে ওরা আর কী কী অদ্ভুত সব শব্দ আবিষ্কার করবে জানা নেই।” এরপরই সরকারের তৈরি ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’ (দেশবিরোধী) এবং ‘টুকরে-টুকরে গ্যাং’-এর মতো তকমাগুলোর কড়া সমালোচনা করে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন তৈরি করার জন্য আসল দায়ী কারা?

Jamia protest: Sparked by police violence in Delhi, universities across ...

দেশের বর্তমান নেতৃত্বের নীতি ও যুব সমাজের ওপর মানসিক আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে নাসিরুদ্দিন বলেন, “তরুণ প্রজন্মের মনোবল ভাঙতে, শিক্ষাব্যবস্থাকে নিঃশেষ করতে এবং দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে আপনারা আর কতটা নামবেন?” অতীতে জেএনইউ (JNU) ও সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটের ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি যোগ করেন, “প্রথমে জেএনইউ, তারপর এসআরএফটিআই আর এখন জামিয়া মিলিয়া—শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো প্রতিটা নির্যাতনের জবাব রাখা হচ্ছে। আমরা সবকিছু মনে রাখব।” একইসঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের আইটি সেলকে ‘অশিক্ষিত ও অযোগ্য’ বলে তীব্র ব্যঙ্গ করেন তিনি। তবে এত প্রতিকূলতার পরেও ভারতের গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর আস্থা বজায় রাখেন প্রখ্যাত এই অভিনেতা।

নাসিরুদ্দিনের এই বিস্ফোরক ভিডিও বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে চর্চার পারদ হু হু করে চড়েছে। তাঁর মন্তব্যকে কটাক্ষ করে অভিনেতা পুনিত ইসার একে ‘বাছাই করা প্রতিবাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাঁরা দেশকে টুকরো করার পক্ষে কথা বলেন, তাঁদের সমর্থনে দাঁড়ানো কীভাবে যুক্তিসঙ্গত হতে পারে? অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও নাসিরুদ্দিনের বক্তব্যকে অত্যন্ত ‘বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছেন। দেশজুড়ে বিতর্ক বাড়লেও নিজের অবস্থানেই অনড় বর্ষীয়ান এই তারকা।