ভারতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানাল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর)-এর বিরুদ্ধে বিরোধীদের মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) ব্লকের ডাকা আগামী ১ নভেম্বরের প্রতিবাদী সমাবেশে পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

বুধবার এক বিবৃতিতে সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণ তাদের নিজেদের সরকার নির্বাচন করবে; কিন্তু সরকার নিজের ভোটার বাছাই করতে পারে না। দলের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় সম্প্রতি পরিচালিত এসআইআর প্রক্রিয়া সেই গণতান্ত্রিক নীতিকে চূড়ান্তভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। সিজেপি-র স্পষ্ট দাবি, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনারের ওপর সাধারণ মানুষের যে আস্থা প্রয়োজন, জ্ঞানেশ কুমার তা হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে তাঁর পদত্যাগ ছাড়া বিকল্প নেই।

ভারতের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস টেনে দলটির মুখপাত্র বলেন, ড. বি আর আম্বেদকর, জওহরলাল নেহরু এবং সংবিধান প্রণেতারা প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে সমান ভোটাধিকার দেওয়ার জন্য লড়াই করেছিলেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, শিক্ষা বা অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সকলের ভোটদানের অধিকার নিশ্চিত করাই ছিল মূল লক্ষ্য। কিন্তু বর্তমান প্রক্রিয়ায় সুবিধার বদলে জটিলতা বাড়িয়ে বৈধ ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ পড়ার গভীর আশঙ্কা তৈরি করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব প্রতিটি যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখা, তাতে কোনো ধরনের বাধার প্রাচীর তৈরি করা নয়।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে থাকা যেকোনো সংগঠনের পাশে থাকবে তারা। ‘জয় ভীম, জয় হিন্দ’ স্লোগান দিয়ে সিজেপি তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে কংগ্রেস ৩০ অক্টোবর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে। এরপর ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘দিল্লি চলো’ পদযাত্রা ও বিশাল জনসভার ডাক দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট, যাতে এখন থেকে যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনও।