লুলার কাছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় গিয়েছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট জমা না দেওয়ায় তা বাতিল করেছে ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ। এই সেনেটরের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়ম, অর্থপাচার, লুলার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এবং নির্বাচনী প্রচারে সম্ভাব্য বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্ত চলছে।

ব্রাজিলের সংবাদপত্র ‘ও গ্লোবো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে হারলে দেশ ছাড়ার বিকল্প পরিকল্পনা আগে থেকেই তৈরি রেখেছিলেন ফ্লাভিও। তাঁর ভাই, প্রাক্তন কংগ্রেস সদস্য এদুয়ার্দো বলসোনারো ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে টেক্সাসে স্বেচ্ছানির্বাসনে রয়েছেন। গত জুলাইয়ে গ্রিন কার্ডও পেয়েছেন তিনি।

২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ফ্লাভিওর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে আর্জেন্টিনার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি সে দেশে প্রবেশ করেছেন।

অর্থপাচারের তদন্তের সূত্রে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশের পরের দিনই দেশ ছাড়েন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট জমা না পড়ায় সেগুলি বাতিল করে দেয় ফেডারেল পুলিশ।

চলতি মাসের প্রথম দফার নির্বাচনে এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও। প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে তাঁকেই এগিয়ে রেখেছিলেন অনেকে। কিন্তু দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত দফায় ৮১ বছর বয়সি লুলার কাছে হারতে হয় তাঁকে। লুলার জয় লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রবণতারও ব্যতিক্রম। এর আগে ওই অঞ্চলে পরপর সাতটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন রক্ষণশীল প্রার্থীরা।

ফ্লাভিওর এই পরাজয় লাতিন আমেরিকায় আমেরিকার প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষাতেও ধাক্কা দিয়েছে। লুলার সঙ্গে ট্রাম্পের একাধিক বার সংঘাত হয়েছে। অন্যদিকে, ফ্লাভিও এবং তাঁর বাবা, ব্রাজিলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে ঘনিষ্ঠ মিত্র বলেই মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তদন্তের জালে ফ্লাভিও

ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক তদন্ত চলছে। মঙ্গলবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আরও একটি তদন্তের, যার কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর নির্বাচনী প্রচারে সম্ভাব্য বিদেশি হস্তক্ষেপ।

ছবির টাকায় গোলমাল?

তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে ‘ডার্ক হর্স’ (২০২৬) ছবির অর্থসংস্থান। জাইর বলসোনারোর জীবন অবলম্বনে তৈরি ইংরেজি ভাষার এই ছবিতে বাস্তব ঘটনার সঙ্গে কিছু কাল্পনিক উপাদানও মেশানো হয়েছে। জাইরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জিম ক্যাভিয়েজেল।

ছবিটির অর্থসংস্থানের জন্য বিতর্কিত ব্যাংকার দানিয়েল ভরকারোর সঙ্গে ১৩ কোটি ৪০ লক্ষ ব্রাজিলীয় রিয়াল, অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ ডলারের চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন ফ্লাভিও। ওই অর্থের উৎস এবং অর্থসংস্থানের প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ভরকারোর বেসরকারি ব্যাংক ‘বানকো মাস্টার’ বন্ধ করে দেওয়ার সময় বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৭০০ কোটি ডলারেরও বেশি। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে এই তদন্তের আওতায় আনা হয় ফ্লাভিওকে। সিএনএন ব্রাজিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনেটর কোনও অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন। তবে নিজের বক্তব্যের সমর্থনে কোনও হিসাবপত্রও পেশ করেননি।

‘দ্য ইন্টারসেপ্ট ব্রাজিল’-এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ছ’টি লেনদেনে অন্তত ১ কোটি ৬ লক্ষ ডলার দেওয়া হয়েছিল। প্রকাশিত কিছু বার্তা ও অডিয়োয় ফ্লাভিওকে অর্থ ছাড়ার জন্য ভরকারোর উপর চাপ দিতে দেখা বা শোনা যায় বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

চলতি মাসে প্রকাশিত আর একটি প্রতিবেদনে ‘দ্য ইন্টারসেপ্ট’ প্রথম ২০ লক্ষ ডলারের অর্থপ্রবাহের সূত্র খুঁজে পায় ফাবিয়ানো জেতেলের মালিকানাধীন একটি সংস্থায়। জেতেল ভরকারোর শ্যালক। তাঁর সংস্থাটিও বানকো মাস্টারের প্রতারণা মামলায় তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ফলে ছবিটির অর্থ বৈধ উৎস থেকেই এসেছিল বলে ফ্লাভিও যে দাবি করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আইনজীবীর সঙ্গে আর্থিক যোগ?

ভরকারোর আইনজীবী উইলার তোমাজের সঙ্গে ফ্লাভিওর সম্পর্কও তদন্তকারীদের নজরে। বিশাল এক প্রতারণাচক্রের মাধ্যমে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে তোমাজের বিরুদ্ধে।

ফেডারেল পুলিশের দাবি, তোমাজের মালিকানাধীন বিদেশে নিবন্ধিত সংস্থা ‘আলকাজার হোল্ডিংস’-এর সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ‘মাস্টার ইউজার’ ছিলেন ফ্লাভিও। ভরকারোর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ব্যক্তিগত জেট বিমানের মালিক সংস্থায় অংশীদারি ছিল আলকাজারের।

অভিযোগ, ওই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফ্লাভিওর উচ্চস্তরের অনুমতি ছিল। অর্থাৎ, অ্যাকাউন্টটির লেনদেনে তাঁর উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে।

ব্রাজিলের সামাজিক সুরক্ষা সংস্থার পেনশন থেকে অনুমতি ছাড়া টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত থেকেই এই অনুসন্ধানের সূত্রপাত। পরে তদন্তকারীরা অনলাইন বেটিংয়ের প্ল্যাটফর্ম এবং তোমাজের সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সম্ভাব্য অর্থপাচারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে শুরু করেন।

সিএনএন ব্রাজিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে ১৩ কোটি রিয়ালের বেআইনি আর্থিক লেনদেন চিহ্নিত করেছে ফেডারেল পুলিশ।

‘টাইমস ব্রাজিল’ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে তোমাজের হয়ে কাজ করা এক ব্যক্তি ব্যাংককে ওই অ্যাকাউন্টে ফ্লাভিওর প্রবেশাধিকার সরিয়ে দিতে বলেছিলেন।

তবে ফ্লাভিও ও তোমাজ—দু’জনেই কোনও অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁদের মধ্যে আর্থিক সম্পর্ক থাকার কথাও মানেননি কেউ।

লুলার বিরুদ্ধে অপবাদ?

তৃতীয় তদন্তের সূত্র সমাজমাধ্যমে ফ্লাভিওর একটি পোস্ট। অভিযোগ, সেখানে লুলাকে আন্তর্জাতিক মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং অর্থপাচারের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

মার্কিন বাহিনী বেআইনিভাবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর, ৩ জানুয়ারি এক্স-এ পোস্টটি প্রকাশ করেন ফ্লাভিও। জুন মাসে ফেডারেল পুলিশ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছয় যে, লুলার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপরাধের অভিযোগ এনেছিলেন তিনি।

বিষয়টি প্রসিকিউটর-জেনারেলের দফতরে পাঠানো হয়েছে। এখন ওই দফতরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার আবেদন করা হবে, আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে কি না, নাকি মামলাটি বন্ধ করার সুপারিশ করা হবে।

বিদেশি মদতের অভিযোগ

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ফ্লাভিওর নির্বাচনী প্রচারে সম্ভাব্য বিদেশি অর্থসাহায্য ও অন্য ধরনের সহযোগিতা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক অর্থদাতাদের সংগঠন ‘রকব্রিজ নেটওয়ার্ক’-এর সঙ্গে কথিত যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হবে।

বৃহত্তর এই তদন্তে বিদেশি অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থের জোগান, তার বিনিময়ে রাজনৈতিক প্রচার এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্ভাব্য কারসাজির বিষয়গুলি পরীক্ষা করা হবে। রকব্রিজ অবশ্য কোনও ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছে।

বাবার পথেই ছেলে?

ব্রাজিল ছেড়ে ফ্লাভিওর চলে যাওয়ার ঘটনায় তাঁর বাবা জাইর বলসোনারোর কথা মনে পড়ছে অনেকের। ২০২৩ সালে লুলার শপথগ্রহণের আগেই দেশ ছেড়েছিলেন জাইর। পরে লুলার কাছে নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানচেষ্টার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন তিনি।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে জাইরের সমর্থকেরা ব্রাসিলিয়ায় সরকারি ভবনগুলিতে হামলা চালান। নির্বাচনের ফল উল্টে দিতে সামরিক বাহিনীর সমর্থন আদায়েরও চেষ্টা করেন তাঁরা। এই ঘটনার সঙ্গে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি আমেরিকায় ঘটে যাওয়া ঘটনার তুলনা করা হয়। জো বাইডেনের কাছে ট্রাম্পের নির্বাচনী পরাজয়ের পর তাঁর ‘ভোট চুরি রুখো’ প্রচারে উত্তেজিত সমর্থকেরা ওয়াশিংটনের ক্যাপিটলে হামলা চালিয়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত জাইর বলসোনারোর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিষিদ্ধ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক ফৌজদারি মামলাতেও অভিযোগ আনা হয়। এর একটিতে অভিযোগ ছিল, অভ্যুত্থানচেষ্টার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি, তাতে অংশ নিয়েছিলেন এবং তার উপর প্রত্যক্ষ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রেখেছিলেন।

তবে ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে চলা তিনটি তদন্তের কোনওটিতেই এখনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তদন্তগুলিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছেন।

২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনেটর হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তখন পদটির সঙ্গে যুক্ত বিশেষ সুবিধাগুলিও হারাবেন তিনি। নির্বাচনে পরাজয়ের পরেও তদন্ত চলতে পারে। সেগুলির পরিণতি নির্ভর করবে প্রমাণ এবং সরকারি কৌঁসুলি ও আদালতের সিদ্ধান্তের উপর।

ট্রাম্পের ভরসা

প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদ থেকেই বলসোনারো পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জাইর বলসোনারো যখন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন (২০১৯–২০২৩), তখন ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের (২০১৭–২০২১) সঙ্গেও সময়ের মিল ছিল। সেই পর্বে ব্রাজিল ও আমেরিকার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ট্রাম্পকে রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করতেন জাইর। সেই সূত্রেই তাঁর নাম হয়েছিল ‘ট্রপিক্সের ট্রাম্প’—অর্থাৎ ক্রান্তীয় অঞ্চলের ট্রাম্প।

ভাষ্যকারদের মতে, দু’জনের সম্পর্কের ভিত ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের প্রতি অবজ্ঞা এবং বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের প্রতি সংশয়।

জাইর ও ট্রাম্প—দু’জনেই একাধিক আইনি মামলায় জড়িয়েছেন। দু’জনেরই দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অন্যায়ভাবে তাঁদের নিশানা করছে। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তাঁদের প্রতিক্রিয়াতেও মিল দেখা গিয়েছে—ভোটে কারচুপির অভিযোগ, পরাজয় মেনে নিতে অনীহা এবং বিদ্রোহে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ।

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প তথাকথিত ‘ডনরো নীতি’ কার্যকর করতে চাইছেন। ১৮২৩ সালের ‘মনরো নীতি’র এটি তাঁর নিজস্ব সংস্করণ। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো এই নীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন। এর মূল বক্তব্য ছিল, পশ্চিম গোলার্ধ—বিশেষত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা—আমেরিকার প্রভাববলয়ের অন্তর্ভুক্ত।

পরবর্তী শতকগুলিতে লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশে নিজেদের অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠা বা প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে সমর্থন করতে আমেরিকা মনরো নীতি এবং শীতল যুদ্ধের সময়কার ট্রুম্যান নীতির আশ্রয় নিয়েছে। ট্রুম্যান নীতির লক্ষ্য ছিল কমিউনিজমের বিস্তার ঠেকানো। সেই দেশগুলির মধ্যে ব্রাজিলও ছিল।

ট্রাম্পের সংস্করণে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাণিজ্যিক অংশীদারদের উপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে সুবিধা আদায়ের প্রবণতা। জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি বিচারের ফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ব্রাজিলের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্তকে তার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, লাতিন আমেরিকায় মাদকের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান চালাতে চায় তারা। জানুয়ারিতে মাদুরোকে আটক করার ক্ষেত্রেও এই যুক্তি দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন বিদেশ দফতর ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলের ২১টি অপরাধী গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাতিন আমেরিকার আশপাশের জলসীমায় বিভিন্ন নৌযানে ৭১টি হামলা চালিয়েছে পেন্টাগন।

ফ্লাভিও নির্বাচনে জিতলে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিলে গুরুত্বপূর্ণ এক মিত্র পেতেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন মাদকচক্রবিরোধী জোট ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’-এ যোগ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন ফ্লাভিও। তবে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগের কারণে সেই জোটে যোগ দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন লুলা।

নির্বাচনে হারলেও ফ্লাভিওর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যে এখনও পুরোপুরি নির্ধারিত নয়, তা স্পষ্ট। তবে একের পর এক তদন্ত, দেশত্যাগ এবং বাবার রাজনৈতিক অতীত—সব মিলিয়ে বলসোনারো পরিবারের সামনে নতুন করে কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।