নয়া দিল্লি:
ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের দায়ের করা বহুল চর্চিত মানহানি মামলায় সাময়িক বিরতির ইঙ্গিত। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ জানান যে, নিশিকান্ত দুবের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে করা বিতর্কিত মন্তব্য ও পোস্টগুলি তাঁরা প্রত্যাহার করে নেবেন। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি তুষার রাও গেডেলার একক বেঞ্চের সামনে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি (Undertaking) আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার মামলার শুনানিকালে মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী আদালতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, তাঁর মক্কেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ নিশিকান্তের বিরুদ্ধে করা ‘ফেক ডিগ্রি কিসম কে আদমি’ (ভুয়ো ডিগ্রিধারী মানুষ) সম্পর্কিত পোস্টটি মুছে ফেলবেন। তবে এর পাশাপাশি আইনজীবী স্পষ্ট করে দেন যে, এটি একটি রাজনৈতিক বিতর্ক এবং নিশিকান্তের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার গণতান্ত্রিক অধিকার মহুয়ার রয়েছে। অন্যদিকে, মামলাভুক্ত প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গের আইনজীবী জানান, একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে নিশিকান্তকে ‘ব্ল্যাকমেলিং কিসম কে আদমি’ হিসেবে মন্তব্য করার অংশটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট পডকাস্টারকে লিখিত অনুরোধ জানাবেন।
শুনানির সময় শুনানিতে ব্যবহৃত এই ধরনের কুরুচিকর ও অপমানজনক শব্দ প্রয়োগের তীব্র বিরোধিতা করে দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি তুষার রাও গেডেলা মন্তব্য করেন যে, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অপমানজনক শব্দ ব্যবহার সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ ও নীতিবহির্ভূত। উভয় পক্ষের প্রতিশ্রুতি নথিবদ্ধ করে আদালত বিবাদীদের আনুষ্ঠানিক সমন জারি করেছে। উল্লেখ্য, এই নিশিকান্ত দুবের অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০২৩ সালে দুবাইয়ের শিল্পপতি দর্শন হিরানন্দনির কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলার অভিযোগে এথিক্স কমিটির তদন্তে মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজ হয়েছিল। হাইকোর্টে এই পদক্ষেপে দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দ্বন্দ্ব নতুন আইনি মাত্রা পেল।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।