পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের দুই শিবিরের টানাপড়েনের মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে দুই বিধায়ককে ঘিরে। এক দিকে হাসনের বিধায়ক কাজল শেখের নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার, অন্য দিকে চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমানের বিরুদ্ধে পুরনো মামলার তদন্ত ফের শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। তবে বিজেপির দাবি, আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শোভনদেবের ঘরে বিজয়ার মিষ্টি, তার পরেই নিরাপত্তা প্রত্যাহার?

বুধবার বিধানসভায় মমতা-অনুগামী প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন কাজল শেখ। বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি তাঁর ঘরে মিষ্টিও খান হাসনের বিধায়ক। এর পরদিনই কাজলের নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

কাজলের দাবি, শোভনদেবের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ের পরেই তাঁর নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছেও নিরাপত্তা ফেরানোর আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

কাজল বলেন, বিজয়ার মিষ্টি খাওয়া যদি অন্যায় হয়, তা হলে তিনি এমন ‘অন্যায়’ বার বার করবেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁর নেত্রী। তবে শোভনদেবের সঙ্গে সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বদলের জল্পনা তৈরি হলেও, ঋতব্রত শিবির ছাড়ার কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিনি করেননি।

হামিদুলের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা খোলার নির্দেশ

অন্য দিকে, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে প্রশাসনিক কর্মসূচি থেকে চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমানকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হামিদুলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরনো মামলাগুলি ফের খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় চোপড়ায় যাঁরা অত্যাচারিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ, তাঁদের নতুন করে থানায় অভিযোগ জানানোর আহ্বানও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দুর বক্তব্য, চোপড়ায় জমি দখলের অভিযোগগুলিও খতিয়ে দেখা হবে এবং বেআইনি ভাবে দখল হওয়া জমি উদ্ধার করা হবে। তবে হামিদুল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, জমি বা বাগান দখলের অভিযোগের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী কোনও প্রমাণ দেখাতে পারবেন না।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য বিজেপির

এই দুই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতরও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের নেতা কুণাল ঘোষের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে দুর্বল করতে পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, বিধানসভায় সৌজন্য বিনিময় বা বিজয়ার মিষ্টি খাওয়ার জন্য কোনও বিধায়কের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হবে কেন?

অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান জানিয়েছেন, হামিদুল তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন। কাজলকে বিধায়ক হিসেবে নিরাপত্তার জন্য অধ্যক্ষের কাছে আবেদন জানাতেও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিজেপির বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কোনও সম্পর্ক নেই। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলবে।

সব মিলিয়ে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দ্বন্দ্বের মধ্যে দুই বিধায়ককে ঘিরে এই ঘটনাগুলি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে নিরাপত্তা প্রত্যাহার ও পুরনো মামলার তদন্তের সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থান বদলের কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।