প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ ফের জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার এক্সে পোস্ট করা ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ জানানোর পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মোদীর কাছ থেকে উত্তর পাননি। বিদেশি শক্তির সঙ্গে কার যোগাযোগ রয়েছে, বিরোধী দলকে ‘দেশবিরোধী’ বলার ভিত্তি কী—এসব প্রশ্নের খোলাখুলি আলোচনা চান তিনি।

রাহুলের প্রস্তাব, বিতর্কে সংবাদমাধ্যম ও তরুণদের উপস্থিতি থাকবে। স্থান বা মঞ্চ বেছে নেওয়ার দায়িত্ব মোদীর ওপর ছেড়ে দেন তিনি। এমনকি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতকে আলোচনার বিচারক বা সঞ্চালক করা হলেও আপত্তি নেই বলে জানান কংগ্রেস নেতা।

বিতর্কের সম্ভাব্য বিষয় হিসেবে রাহুল ভারতের আর্থিক ব্যবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার কারণ, মন্ত্রিসভাকে না জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, গৌতম আদানি-সংক্রান্ত মামলা এবং জেফ্রি এপস্টিন প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, অন্য বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫টি মানহানির মামলা রয়েছে। বিদেশি সংযোগ নিয়ে মন্তব্যে মোদী মানহানির মামলা করতে চাইলে তা-ও আলোচনায় আনতে পারেন বলে বলেন তিনি।

এর আগে সোমবার রাহুল অভিযোগ করেছিলেন, বিদেশি সহায়তার কারণেই মোদী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং ক্ষমতায় রয়েছেন। ওই অভিযোগ ঘিরেই দুই দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়। মোদী সরাসরি রাহুলের নাম না করে দেশের ভিতরের কিছু শক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ করেছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

অমিত শাহের পাল্টা চ্যালেঞ্জের বিষয় অবশ্য আলাদা। মঙ্গলবার রায়পুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর), ইভিএম এবং অনুপ্রবেশ নিয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত। তাঁর অভিযোগ, রাহুল সংসদ চলতে দেন না। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকতে সরকার রাজি বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিজেপির অন্য নেতারাও রাহুলের চ্যালেঞ্জের সমালোচনা করেছেন। সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেন, ভারতের শত্রুদের স্বার্থ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে, তাঁর মুখে অন্যদের বিদেশি সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হাস্যকর। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে নথিপত্র নিয়ে বিতর্কের প্রস্তাব দিয়েছেন।

দুই পক্ষের বক্তব্যে বিতর্কের ক্ষেত্রও আলাদা হয়ে উঠেছে: রাহুলের প্রস্তাবে বিদেশি সংযোগ, আর্থিক ব্যবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ও আদানি মামলা; শাহের আহ্বানে এসআইআর, ইভিএম ও অনুপ্রবেশ। মোদী এই প্রকাশ্য বিতর্কে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে তাঁর তরফে কোনও সম্মতির খবর পাওয়া যায়নি।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য ট্রিবিউন।