ভিড়ে আটকে, AK-47!

যা জানা জরুরি
- সিওয়ানে ছাত্র-যুব বিক্ষোভের মাঝে ভিড়ে আটকে পড়েই নাকি একে-৪৭ থেকে চার রাউন্ড গুলি ছুড়েছিলেন এক পুলিশকর্মী।
- তবে গুলি চালানো হয়েছিল শূন্যে, আর তাতে কেউ আহত হননি—সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় এমনই দাবি করেছে বিহার পুলিশ।
- অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিচালক (আইনশৃঙ্খলা) কে সুহিতা অনুপমের দাখিল করা পাল্টা হলফনামা অনুযায়ী, গত ২৫ জুলাই সিওয়ানের গান্ধী ময়দানে সিপিআই(এমএল)-এর ছাত্র সংগঠন আইসা এবং যুব…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সিওয়ানে ছাত্র-যুব বিক্ষোভের মাঝে ভিড়ে আটকে পড়েই নাকি একে-৪৭ থেকে চার রাউন্ড গুলি ছুড়েছিলেন এক পুলিশকর্মী। তবে গুলি চালানো হয়েছিল শূন্যে, আর তাতে কেউ আহত হননি—সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় এমনই দাবি করেছে বিহার পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিচালক (আইনশৃঙ্খলা) কে সুহিতা অনুপমের দাখিল করা পাল্টা হলফনামা অনুযায়ী, গত ২৫ জুলাই সিওয়ানের গান্ধী ময়দানে সিপিআই(এমএল)-এর ছাত্র সংগঠন আইসা এবং যুব সংগঠন আরওয়াইএ-র সদস্যেরা জমায়েত হন। সেখান থেকে জেপি চকের দিকে মিছিল এগোতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশের দাবি, দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করেন। পরে মৈরওয়া রোড ও গোপালগঞ্জ রোডের দিক থেকে আসা আরও কয়েক জন সেই হামলায় যোগ দেন। পাথরের আঘাতে সিওয়ানের পুলিশ সুপার, দুই মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, দুই পরিদর্শক, দুই উপপরিদর্শক এবং ১৩ জন কনস্টেবল-সহ মোট ২০ জন পুলিশকর্মী আহত হন বলে হলফনামায় জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুটি পুলিশের গাড়ি এবং একাধিক ট্রাফিক কন্ট্রোল ট্রলি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছ’টি মামলা হয়েছে, যেখানে ৮২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ১৭ জনকে।
পুলিশের দাবি, মোতায়েন করা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ফলে বিভিন্ন বিভাগ এবং পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত কর্মী ডেকে পাঠানো হয়। সেই সময় জেপি চকের কাছে জেলা গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত এক কনস্টেবল ভিড়ের মধ্যে আটকে পড়েন। হলফনামা অনুযায়ী, সেখানেই তিনি নিজের একে-৪৭ থেকে শূন্যে চার রাউন্ড গুলি চালান। পুলিশের দাবি, ওই গুলিতে কেউ আহত হননি।
তবে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে হাতি চকের কাছে পরিস্থিতি ছিল আলাদা। সেখানে এক সহকারী উপপরিদর্শক তাঁর ন’মিলিমিটার পিস্তল থেকে দু’রাউন্ড গুলি চালান বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে .৩১৫ বোরের দুটি এবং ৭.৬৫ মিলিমিটারের একটি ব্যবহৃত কার্তুজও উদ্ধার হয়েছে।
ওই এলাকায় গুলিতে তিন বিক্ষোভকারী সামান্য আহত হন। তাঁদের প্রথমে সিওয়ান সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পটনার মেদান্ত হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসার পর তিনজনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিহার পুলিশের বক্তব্য, আহত তিন বিক্ষোভকারীর শরীরে একে-৪৭-এর গুলি লাগেনি। এমনকি তাঁরা সেই জায়গাতেও ছিলেন না, যেখানে ওই কনস্টেবল একে-৪৭ থেকে গুলি চালিয়েছিলেন। ঠিক কোন অস্ত্র থেকে, কত দূরত্বে এবং কী কোণ থেকে গুলি ছোড়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে ব্যালিস্টিক পরীক্ষা চলছে।
একে-৪৭ ব্যবহারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কনস্টেবলকে ‘অনভিপ্রেত আচরণের’ অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্তও। পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, একে-৪৭ মূলত প্লাটুন-স্তরের অস্ত্র এবং বিশেষ অভিযানে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট। সাধারণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এমন অস্ত্র ব্যবহারের কথা নয়।
ঘটনার পর গত ১ আগস্ট একে-৪৭-সহ এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে নতুন করে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছেন বিহারের পুলিশ মহানির্দেশক।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



