২০০১ সালের ছোট আঙারিয়া হত্যাকাণ্ড এবং ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের হিংসার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা ফের খোলার হুঁশিয়ারি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার গড়বেতায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ সমাবেশে তিনি বলেন, ওই ঘটনাগুলিতে জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসা ফিরিয়ে আনতে সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেস হাত মিলিয়েছে।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “আপনার এত বড় সাহস যে বলছেন, বিজেপি সিপিএমকে আক্রমণ করতে এসেছিল, আর মানুষ প্রতিরোধ করেছেন!” তাঁর বক্তব্য, ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনের সময় গড়বেতার সিপিএম কার্যালয় থেকে যারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নন্দীগ্রামে গিয়েছিল বলে অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে মামলা ফের খোলা হবে।
শুভেন্দু বলেন, “বামফ্রন্ট আমলে নন্দীগ্রাম ও ছোট আঙারিয়ায় যে অপরাধ হয়েছিল, তার ফাইল আমি আবার খুলব। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামে রক্তাক্ত সূর্যোদয় ঘটাতে গড়বেতার সিপিএম অফিস থেকে যারা বন্দুক নিয়ে গিয়েছিল, তাদের মামলা আবার খুলব। একজনকেও ছাড়া হবে না।”
প্রাক্তন সিপিএম নেতা তথা মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষের সঙ্গে অতীতের সংঘাতের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ওই এলাকায় ঢুকলে তাঁর পা ভেঙে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন সিপিএম নেতারা। শুভেন্দু বলেন, “তিন দিনের মধ্যে চন্দ্রকোনা রোডে গিয়ে সুশান্ত ঘোষের বুকের উপর দাঁড়িয়ে সভা করেছিলাম।”
রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি করতে সিপিএম ও তৃণমূল একজোট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আজকের তৃণমূলই সিপিএম। দু’টো দল মিশে গিয়েছে। ওরা সেই অরাজকতার দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে চায়।”
২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় বিজেপি সাংসদ প্রণত টুডুর উপর হামলার অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। সংশ্লিষ্ট এফআইআরের একটি প্রতিলিপি তাঁকে পাঠাতে বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই ঘটনায় কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা তিনি খতিয়ে দেখবেন। অভিযুক্তদের মধ্যে যারা এখনও ধরা পড়েনি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন।
পুরুলিয়া থেকে ফেরার পথে চন্দ্রকোনা রোডে তাঁর উপর হামলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করে শুভেন্দু বলেন, “ওরা কী করেছিল, আমরা ভুলে যাইনি। কেশপুরেও একই কাজ করেছিল। সব হিসাব মেটানোর সময় এসে গিয়েছে।”
২০০১ সালের ৪ জানুয়ারি পশ্চিম মেদিনীপুরের ছোট আঙারিয়া গ্রামে ১১ জন তৃণমূল সমর্থককে খুন করার অভিযোগ ওঠে সিপিএম কর্মীদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাই ছোট আঙারিয়া হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।