প্রতিষ্ঠার চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সরাসরি দলীয় ট্রেড ইউনিয়ন থেকে দূরত্ব বজায় রাখার নীতিতে ইতি টানল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ৪৬ বছরের পুরনো সাংগঠনিক অবস্থান বদলে এবার নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন গড়ে সরাসরি ট্রেড ইউনিয়নের ময়দানে অবতীর্ণ হলো গেরুয়া শিবির। শনিবার কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বর থেকে বিজেপির এই নতুন শ্রমিক সংগঠনের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হলো। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঐতিহাসিক সাংগঠনিক সূচনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকেই এই সংগঠনের সূচনা করে আগামী দিনে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে তা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

এতদিন সঙ্ঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ (বিএমএস) পৃথকভাবে সক্রিয় থাকলেও, বামেদের ‘সিটু’, কংগ্রেসের ‘আইনটাক’ কিংবা তৃণমূলের ‘আইএনটিটিইউসি’-র মতো সরাসরি বিজেপির পতাকা তলে কোনও দলীয় ট্রেড ইউনিয়ন ছিল না। সেই দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নতুন শ্রমিক সংগঠনের সূচনা করে স্বচ্ছতার প্রশ্নে বিশেষ জোর দেন সুনীল বনসল। তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, কলকাতা বিমানবন্দর থেকেই এই শ্রমিক সংগঠনের প্রথম ধাপ শুরু হলো, পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও একইভাবে সংগঠনের বিস্তার ঘটানো হবে। তবে সংগঠন গড়ে তোলার পাশাপাশি তার পরিচালনা পদ্ধতিতে যাতে কোনও ধরনের অনিয়ম, কাটমানি সংস্কৃতি বা অস্পষ্টতা না থাকে, সে বিষয়ে দলীয় কর্মীদের কঠোর বার্তা দেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।

অনুষ্ঠানে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই নতুন উদ্যোগের সাফল্য কামনা করে জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিল্পের সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর কথায়, কেবল চিরাচরিত শ্রমিক-মালিক সংঘাত নয়, অধিকারের পাশাপাশি কর্তব্য পালনের ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে এই সংগঠনের দর্শন। শ্রমিকদের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ গড়ে তুলে তাঁদের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ ও সামাজিক সুরক্ষার দাবি সাংগঠনিকভাবে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই উদ্যোগ রাজ্যের শিল্প বিকাশ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ট্রেড ইউনিয়নের উদ্বোধনের পাশাপাশি এ দিন রাজ্যের সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সুর চড়ান রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে অসংগঠিত শ্রমিক, কারখানা এবং পরিবহণ ক্ষেত্রে দীর্ঘকাল ধরে বাম ও তৃণমূলের যে দাপট রয়েছে, সেখানে সরাসরি থাবা বসাতেই এবার নিজেদের দলীয় ট্রেড ইউনিয়ন ময়দানে নামাল বিজেপি। আর সেই সর্বভারতীয় রণকৌশলের সূচনা পর্ব হিসেবে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতাকেই বেছে নিল পদ্ম শিবির।