বিজয়া দশমী কিংবা কোজাগরী পূর্ণিমা মিটে গিয়েছে অনেক দিন। সামনেই দীপাবলি ও কালীপুজো। এই সময়ে রাজ্যের প্রতিটি পুজো মণ্ডপ বা প্যান্ডেল খোলার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এর সম্পূর্ণ উল্টো ছবি দেখা গেল হুগলির চুঁচুড়ায়। জিটি রোডের পাশেই সুকান্তনগরের ‘সুকান্ত স্মৃতি সঙ্ঘ’-এর পুজো প্যান্ডেল এখনও ভাঙা হয়নি। কারণ, প্যান্ডেলের চালের নিচে বাসা বেঁধেছে একজোড়া ঘুঘু পাখি এবং সেখানে ডিম ফুটে রয়েছে নতুন ছানারা। যতক্ষণ না সেই ছানারা বড় হয়ে আকাশে ডানা মেলছে, ততক্ষণ প্যান্ডেল ভাঙতে নারাজ পুজো কমিটির সদস্যরা।

পুজো কমিটির সূত্রে জানা গেছে, এ বছর তাদের থিম ছিল ‘সাঁচী স্তূপ’। প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলাকালীনই সিলিংয়ের কাছে এসে বাসা বাঁধতে শুরু করে দুটি ঘুঘু। পুজোর পনেরো দিন আগেই সেখানে চারটি ডিম পাড়ে তারা। প্যান্ডেলের সৌন্দর্য বা ত্রিপল লাগানোর কথা ভাবলেও, ওই প্রাণের সুরক্ষায় সেই পরিকল্পনা বদলে ফেলেন উদ্যোক্তারা। সিলিংয়ের ওপর ত্রিপলের বদলে কেবল কাপড় টাঙিয়ে দেওয়া হয়, যাতে পাখিগুলো কোনোভাবে বিরক্ত না হয়।

বিজয়া ও লক্ষ্মীপুজো পেরিয়ে গেলেও ঘুঘুর ছানাদের আগলে রেখেছেন উদ্যোক্তারা। ইতিমধ্যে একটি ছানা বড় হয়ে উড়ে গেলেও বাকি তিনটি ছানার ওড়ার অপেক্ষাতেই থমকে রয়েছে প্যান্ডেল খোলার কাজ। জনসাধারণের যাতায়াতের সুবিধার জন্য সামনের অংশ কিছুটা খোলা হলেও মূল মণ্ডপটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পুজো কমিটির সম্পাদক প্রণব পাল ও সদস্য মনোজ মণ্ডলদের স্পষ্ট কথা, “ওদেরও তো বাঁচার অধিকার রয়েছে। ছানারা উড়তে শিখুক, তারপরেই প্যান্ডেল খোলা হবে।”

প্রকৃতির প্রতি এই মানবিক ও সংবেদনশীল উদ্যোগের খবর চাউর হতেই সাধুবাদ জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের ব্যান্ডেল-মগরা বিজ্ঞান কেন্দ্র। পুজো কমিটির এই ইতিবাচক মানসিকতাকে সম্মান জানিয়ে তাদের সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজ্ঞান মঞ্চও।