টিউশন পড়িয়ে বাড়ি ফেরার পথে এক তরুণী গৃহশিক্ষিকার পথ আটকে জোরপূর্বক সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল দাবি এবং অশালীন আচরণের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে। ‘ইনস্টাগ্রাম আইডি বলো, মেসেজের উত্তর দিতে হবে’—এই দাবিতে তরুণীকে হেনস্থা ও শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-র নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত তরুণী পেশায় গৃহশিক্ষিকা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি এক ছাত্রের বাড়ি থেকে পড়িয়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশে হেঁটে ফিরছিলেন। সেই সময় নির্জন রাস্তায় অভিযুক্ত দুই যুবক তাঁর পথ আগলে দাঁড়ায়। অভিযোগ, তারা প্রথমে তরুণীর নাম-পরিচয় জানতে চায় এবং পরে জোর করে তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলের নাম দাবি করতে থাকে। সামাজিক মাধ্যমে তাদের পাঠানো বার্তার উত্তর কেন দেওয়া হবে না, সেই নিয়েও তরুণীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।
তরুণী বিষয়টি এড়িয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাঁর পথ সম্পূর্ণ আটকে দেয় এবং অশালীন মন্তব্য ছুড়ে দিয়ে শ্লীলতাহানি করে। যুবতীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে বেগতিক দেখে অভিযুক্তরা চম্পট দেয়।
ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও সাহস জুগিয়ে পরিবারের সদস্যদের সব জানান ওই গৃহশিক্ষিকা। এরপরই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সক্রিয় হয় পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং তরুণীর দেওয়া বর্ণনার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই যুবককে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়।
মহিলাদের নিত্য চলাচলের রাস্তায় এভাবে জোর করে সোশ্যাল মিডিয়া আইডি চাওয়া এবং শ্লীলতাহানির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানোর দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। ধৃতদের অতীতে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে কি না এবং তারা এলাকায় নিয়মিত মহিলাদের হেনস্থা করত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।