গৌতম চক্রবর্তী, মালদহ: দেশের স্বাধীনতার দীর্ঘ সাতটি দশক অতিক্রান্ত। দেশজুড়ে উন্নয়নের জোয়ার বইছে বলে দাবি করা হলেও, তার বাস্তব চিত্র যে কতটা করুণ, তার ফের প্রমাণ মিলল উত্তরবঙ্গের মালদহ জেলায়। বিডিও অফিস বা প্রশাসনিক কার্যালয় থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে অবস্থিত জনবহুল পাড়ায় নেই কোনো যাতায়াতের রাস্তা। আর সেই জেরে এক অসুস্থ রোগীকে খাটিয়ায় চাপিয়ে কাঁধে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই চারদিকে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা এবং সমালোচনার ঝড়।
ঘটনাটি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক সংলগ্ন 'ব্লক পাড়া' এলাকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের ঠিক উলটোদিকেই অবস্থিত এই ব্লক পাড়াটিতে প্রায় একশোটি পরিবারের বসবাস। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল, প্রশাসনিক নাকের ডগায় থাকা এই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঢোকার কোনো পাকা বা উপযুক্ত রাস্তা নেই।
৩০ বছরের ভোগান্তি ও পুকুরের গ্রাস
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, একসময় ওই অঞ্চলে যাতায়াতের রাস্তা থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা একটি সংলগ্ন পুকুরের গ্রাসে চলে যায়। এরপর প্রায় তিন দশক ধরে চরম দুর্দিনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সেখানকার বাসিন্দাদের। রাস্তা না থাকার কারণে এলাকায় ঢোকার উপায় নেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা দমকলের মতো জরুরি পরিষেবার। এমনকি সাইকেল বা মোটরবাইক নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়েও নিত্যদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এই কাঁচা ও বেহাল পথ দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
বারেবারে প্রতিশ্রুতি, কাজের কাজ শূন্য
স্থানীয়দের ক্ষোভ, ভোট এলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা এলাকায় এসে রাস্তা তৈরি করে দেওয়ার লম্বা চওড়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। কিন্তু ভোট মিটে গেলেই আর কারো দেখা মেলে না। বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা হয়নি।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় কোনো প্রসূতি বা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে নিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে তেমনই এক অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে শেষ পর্যন্ত খাটিয়ায় চাপিয়ে ঘাড়ে করে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে বাধ্য হন স্থানীয়রা। সেই দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র শোরগোল শুরু হয়।
প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন বেহাল পরিকাঠামো এবং মৌলিক অধিকার থেকে সাধারণ মানুষের বঞ্চিত থাকার এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ জনতা। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন এলাকাবাসী।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।