আলিপুরদুয়ার: প্রতিবেশী ভুটানে হিমবাহসৃষ্ট হ্রদের বাঁধ ভেঙে নেমে এল বিপুল জলরাশি। তার জেরে উত্তরবঙ্গ ও অসমের বিস্তীর্ণ এলাকায় হড়পা বানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সঙ্কোশ নদীর অববাহিকায় জারি হয়েছে সতর্কতা। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আলিপুরদুয়ারে সঙ্কোশ নদীর জলস্তরে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি না হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
ভুটানের গাসা জেলার লেমথাং অঞ্চলের শিনতাফু হ্রদে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই বিপর্যয় ঘটে। হিমবাহসৃষ্ট হ্রদের জলধারণকারী প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জল বেরিয়ে আসে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সেই জল মুছু নদী হয়ে সঙ্কোশ নদীর দিকে এগোতে শুরু করে। ভুটানের পাশাপাশি ভারতেও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
উত্তরবঙ্গে প্রশাসনের সতর্কতা, শুরু উদ্ধার ও সরানোর কাজ
জলস্ফীতির আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ার জেলার সঙ্কোশ নদী সংলগ্ন গ্রামগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মাইকে প্রচার চালিয়ে নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানায় প্রশাসন। গবাদি পশু নিয়েও বাড়িঘর ছাড়তে দেখা যায় বহু মানুষকে।
আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার শ-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ মানুষকে অস্থায়ী শিবিরে রাখা হয়েছে। আরও ৬,০০০-এর বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্কুলবাড়ি-সহ বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জলসম্পদ মন্ত্রকের তরফেও আলিপুরদুয়ার ও অসমের ধুবড়ি জেলার জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়। কেন্দ্রীয় জল কমিশনের আশঙ্কা, ভুটান থেকে নেমে আসা জল ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় সীমান্তে পৌঁছে নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।
অসমেও সতর্কতা, নজরে ধুবড়ি
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, অসমের ধুবড়ি ও কোকরাঝাড় এলাকাতেও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার দফতর জানিয়েছে, বিপজ্জনক এলাকাগুলির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে সংশ্লিষ্ট দলগুলি।
দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তাও পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানিয়েছেন।
জলস্তর না বাড়ায় স্বস্তি, তবু বহাল লাল সতর্কতা
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত অসমের সঙ্কোশ নদীর জলস্তর স্থিতিশীল ছিল বলে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরবর্তী সময়ে জলপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমার খবরও এসেছে। তবে বিপদের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। সঙ্কোশ নদী ব্যবস্থায় লাল সতর্কতা বহাল রেখেছে প্রশাসন।
ভুটানে হড়পা বানের জেরে রাস্তা, সেচ পরিকাঠামো এবং কয়েকটি স্থানীয় স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। তবে আগাম সতর্কতা ও বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কারণে এখনও পর্যন্ত প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
এখন নজর সঙ্কোশ নদীর জলস্তরের দিকে। ভুটান থেকে নেমে আসা জল শেষ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ ও অসমের নদী তীরবর্তী জনপদগুলিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক ঘণ্টার পরিস্থিতির উপর। প্রশাসনের আবেদন, আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন এবং সরকারি নির্দেশ মেনে চলুন।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।