টাকা নিয়ে সামান্য বকেয়ার বিবাদের জেরে চরম নৃশংসতার সাক্ষী থাকল গুজরাত। গাড়ির ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ঝলসে মৃত্যু হলো দুই পরিযায়ী শ্রমিকের। তাঁদের মধ্যে একজন মাত্র ১৬ বছরের নাবালক। গুজরাতের আমরেলি জেলার গুন্ডারান গ্রামে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ও নারকীয় ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই শ্রমিকের নাম রবি বাধেল (১৬) এবং নিতিন পচায়া (২১)। তাঁরা দু’জনেই মূলতঃ মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা এবং কাজের সন্ধানে গুজরাতের ওই গ্রামে এসেছিলেন। ঘটনার রাতে একটি কৃষি খামারে পার্ক করে রাখা একটি গাড়ির ভেতর ঘুমিয়েছিলেন ওই দুই পরিযায়ী শ্রমিক। অভিযোগ, গভীর রাতে আচমকা গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। চিৎকার ও আগুনের লেলহান শিখা দেখে স্থানীয়রা এবং রবির বাবা কমলেশ বাধেল ঘটনাস্থলে ছুটে এসে জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে গাড়ির ভেতরেই পুড়ে ছাই হয়ে যান দুজন।

লিলিয়া থানার পুলিশ দ্রুত তদন্তে নেমে এই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থাকা মূল অভিযুক্ত বিনোদ দোদিয়ার এবং তাঁর আত্মীয় রাজু দোদিয়ারকে গ্রেফতার করেছে। আমরেলি জেলার ডেপুটি সুপার বিস্ময় মানসেটা প্রাথমিক তদন্তের পর জানিয়েছেন, একটি পুরনো গাড়ি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে ৩০ হাজার টাকার বকেয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলমাল চলছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে, বিনোদ দোদিয়ার নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে রীতেশ সিংহ একটি গাড়ি কিনেছিলেন, যার ৩০ হাজার টাকা বাকি ছিল। টাকা মেটাতে না পারায় রীতেশ গাড়িটি তাঁর বন্ধু তথা মৃত রবির বাবা কমলেশের হাতে তুলে দেন। নিজের গাড়ি হাতছাড়া হওয়ায় প্রচণ্ড আক্রোশে ফেটে পড়েন বিনোদ। প্রতিশোধ নিতে তিনি অদূরের একটি পেট্রল পাম্প থেকে নিজের বাইকে পেট্রল ভরে আনেন। এরপর বাইক থেকে তেল বার করে ক্যানে ভরে পার্ক করা গাড়িটিতে ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। পুলিশ জানায়, বিনোদের দাবি অনুযায়ী গাড়ির ভেতরে যে কমলেশের ছেলে রবি ও অন্য এক শ্রমিক ঘুমিয়ে ছিলেন, তা তিনি খেয়াল করেননি। পুরো ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ।