গণতান্ত্রিক আন্দোলন চলাকালীন কোনো নাগরিকের ওপর রাজ্যের প্রযুক্তিগত নজরদারি কি তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গোপনীয়তার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করে? আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করতে পুলিশি প্রযুক্তির ব্যবহার কি সাধারণ নাগরিকদের ওপর ‘নেতিবাচক রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ’ (Negative State Interference)? গত জুলাই মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী কর্মসূচির ওপর দিল্লি পুলিশের ফেসিয়াল রেকগনিশন টেকনোলজি (FRT) বা মুখের অবয়ব চিহ্নিতকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের বৈধতা এবং গোপনীয়তার অধিকার সম্পর্কিত একগুচ্ছ আবেদনের শুনানিতে এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নটি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনিয়ার সমন্বয়ে গঠিত তিন বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি চলাকালে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কোন আইনি কাঠামোর অধীনে এবং কীভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের সার্ভেইল্যান্স বা নজরদারি করা হচ্ছে এবং সংগৃহীত ডেটার সুরক্ষাই বা কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর জবাবে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন যে জনসমক্ষে প্রতিবাদ করার সময় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার কতটা প্রযোজ্য তা বিচার্য, কারণ সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থেই সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়ে থাকে।
তবে সলিসিটর জেনারেলের এই যুক্তিকে ‘অত্যন্ত সরলীকরণ’ বলে খারিজ করে দেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে পর্যবেক্ষণ করেন যে, মানুষের চোখ দিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা আর কোনো কোটি কোটি মানুষের তথ্য সংরক্ষণ করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সুবিশাল মেমোরির প্রযুক্তি ব্যবহার করার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। মেশিন যখন অপরাধের জাতীয় ডেটাবেসের (NCRB) সঙ্গে কোনো সাধারণ নাগরিকের মুখের ছবি মিলিয়ে নজরদারি চালায়, তখন তা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে কি না, আদালত তা গভীরতার সঙ্গে খতিয়ে দেখবে।
একই সঙ্গে শুনানিতে দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির পক্ষে উপস্থিত হয়ে প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগি অভিযোগ জানান যে, উৎসবের এই মরসুমে দফায় দফায় গণআন্দোলন ও পথ অবরোধের কারণে কনট প্লেসসহ রাজধানীর বাজারগুলিতে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই বিষয়ে উভয় সংকটের ইঙ্গিত দিয়ে জানান, সংবিধানে যেমন প্রতিবাদের অধিকার সুরক্ষিত, তেমনই সাধারণ দোকানদার, হকার ও শ্রমিকদের রুটি-রুজির অধিকারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই আন্দোলনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান কেবল নির্দিষ্ট ও সীমিত সময়ের জন্যই বরাদ্দ হওয়া উচিত, যাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাজার বা জনসাধারণের যাতায়াতের পথ রুদ্ধ না হয়।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।