উত্তরাখণ্ডের যোশীমঠের কাছে শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, একটি হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ে পাইলট-সহ ছয় আরোহীরই মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, খারাপ আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। নিহতদের মধ্যে পাঁচ জন কর্নাটকের তীর্থযাত্রী।

চামোলির জেলাশাসক গৌরব কুমার জানিয়েছেন, বেসরকারি সংস্থা ট্রান্স ভারত অ্যাভিয়েশনের হেলিকপ্টারটি বদ্রীনাথ থেকে দেরাদুনের সহস্রধারা হেলিপ্যাডে যাচ্ছিল। দুপুর পৌনে দুটো নাগাদ সেটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

জেলাশাসক বলেন, “চাই গ্রামের উপরের দিকে একটি সেনাছাউনির কাছে হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।”

নিহতেরা হলেন দিল্লির বাসিন্দা পাইলট ক্যাপ্টেন হিমাংশু সভরওয়াল এবং পাঁচ তীর্থযাত্রী—প্রতাপা বাচিহাল্লি, ভি বি শঙ্কর গৌড়া, সুধীর কে, এস এস নটরাজ ও অরুণ সালুনকে।

উত্তরাখণ্ড অসামরিক বিমান পরিবহণ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ইউকাডা) মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক প্রতীক জৈন জানিয়েছেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ট্রান্স ভারত অ্যাভিয়েশনের সমস্ত হেলিকপ্টারের উড়ান বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি জানান, গত কয়েক দিন ধরে ওই অঞ্চলে তুষারপাত ও বৃষ্টি হচ্ছিল। তবে আবহাওয়া অনুকূল থাকলেই কেবল হেলিকপ্টার চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল।

জৈন বলেন, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ) এবং এয়ারক্র্যাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (এএআইবি) আধিকারিকদের দেরাদুনে আসার কথা। ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে, মরসুমের বাকি সময়ে শাটল ও চার্টার পরিষেবা ফের চালু করা যাবে কি না, অথবা চালু থাকা পরিষেবাগুলি অব্যাহত রাখা যাবে কি না।”

দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সম্ভাব্য সব রকম সাহায্য করার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অন্য দিকে, এই দুর্ঘটনার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন উত্তরাখণ্ড কংগ্রেসের প্রবীণ সহ-সভাপতি সূর্যকান্ত ধস্মানা। বিশেষ করে চারধাম যাত্রাপথে বিমান চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে ধস্মানা বলেন, ২০২৫ সালে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে উত্তরাখণ্ডে হেলিকপ্টার-সংক্রান্ত পাঁচটি ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চারধাম অঞ্চলে নথিভুক্ত আটটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার মধ্যে চারটিই ঘটেছিল ২০২৫ সালে। শুক্রবারের দুর্ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।