১ নভেম্বর থেকে জাতীয় সড়কের টোল প্লাজার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারীরা অবাণিজ্যিক গাড়ির জন্য বার্ষিক পাস কিনতে পারবেন। একবার পাস নিলেই সংশ্লিষ্ট টোল প্লাজা দিয়ে সারা বছর যত বার খুশি যাতায়াত করা যাবে। দাম কত, কী কী শর্ত মানতে হবে, আর কোথায় মিলবে এই সুবিধা? জেনে নিন বিস্তারিত।
টোল প্লাজার আশপাশে থাকেন, অথচ প্রতিদিন যাতায়াতের সময় বারবার টোল দিতে হয়—এমন সমস্যায় পড়েন অনেকেই। সেই খরচের বোঝা কমাতে নতুন উদ্যোগ কেন্দ্রীয় সরকারের। ১ নভেম্বর থেকে জাতীয় সড়কের কোনও টোল প্লাজার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারীরা অবাণিজ্যিক গাড়ির জন্য বার্ষিক স্থানীয় পাস কিনতে পারবেন। এই পাসে সংশ্লিষ্ট টোল প্লাজা দিয়ে সারা বছর সীমাহীন যাতায়াত করা যাবে।
ভারতের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই) চালু করছে এই ব্যবস্থা। ‘রাজমার্গযাত্রা’ অ্যাপের মাধ্যমে পাস কেনা যাবে। বর্তমানে চালু মাসিক ডিজিটাল পাসের বদলে বার্ষিক পাস নিলে দীর্ঘমেয়াদে খরচও কমবে।
পাসের দাম কত? একাধিক টোল প্লাজায় কি এটি ব্যবহার করা যাবে? অন্য কাউকে পাসটি দেওয়া যাবে কি? দাম কি প্রতি বছর বদলাবে? জেনে নেওয়া যাক।
পাসের নতুন নিয়ম
স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ডিজিটাল পাসের ব্যবস্থা অবশ্য আগেই চালু হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দিল্লির আরবান এক্সটেনশন রোড–২-এর মুন্ডকা-বক্করওয়ালা টোল প্লাজায় প্রথম এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়।
ডিজিটাল পাস চালু হওয়ায় কাগজপত্র জমা দিতে বা সশরীরে উপস্থিত হয়ে যাচাই করাতে হয় না। অনলাইনেই কয়েক মিনিটের মধ্যে আবেদন ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। তার আগে টোল প্লাজায় গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হত।
এ বার বার্ষিক পাস চালু হওয়ায় প্রতি মাসে পাস নবীকরণের ঝক্কিও কমবে। জাতীয় সড়কের নিয়ম অনুযায়ী, অবাণিজ্যিক গাড়ির মাসিক পাসের দাম ৩৫০ টাকা।
দাম কত?
কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের ২৬ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, টোল প্লাজাটি কোথায় অবস্থিত, তার উপর নির্ভর করবে বার্ষিক পাসের দাম।
১,৫০০ টাকা: টোল প্লাজা যদি পুরসভা বা স্থানীয় শহর এলাকার সীমানার বাইরে থাকে।
৩,০০০ টাকা: টোল প্লাজা যদি পুরসভা বা স্থানীয় শহর এলাকার সীমানার মধ্যে থাকে।
অর্থাৎ, দিল্লি-এনসিআর-সহ বিভিন্ন মহানগরের শহরাঞ্চলের মধ্যে থাকা টোল প্লাজার ক্ষেত্রে বার্ষিক পাসের দাম হবে ৩,০০০ টাকা।
বর্তমানে মাসিক পাসের দাম ৩৫০ টাকা। সেই হিসাবে ১২ মাসের পাস নিতে খরচ হয় ৪,২০০ টাকা। ফলে বার্ষিক পাসের দাম ১,৫০০ টাকা হলে বছরে ২,৭০০ টাকা এবং ৩,০০০ টাকা হলে ১,২০০ টাকা সাশ্রয় হতে পারে।
তবে এই সুবিধা সব টোল প্লাজায় মিলবে না। যে জাতীয় সড়ক বা এক্সপ্রেসওয়েতে ‘ক্লোজড ইউজার ফি কালেকশন সিস্টেম’-এর মাধ্যমে টোল আদায় হয়, সেখানে এই ছাড়যুক্ত স্থানীয় পাস দেওয়া হবে না। এই ব্যবস্থায় গাড়ি কোথা দিয়ে ঢুকছে এবং কোথা দিয়ে বেরোচ্ছে, তার ভিত্তিতে টোল নির্ধারিত হয়। যাতায়াতের জন্য সার্ভিস রোড বা বিকল্প রাস্তা থাকলেও এই পাস পাওয়া যাবে না।
এক পাসে এক টোল
বার্ষিক স্থানীয় পাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। যে টোল প্লাজার জন্য পাসটি কেনা হবে, শুধুমাত্র সেই টোল প্লাজাতেই সেটি ব্যবহার করা যাবে। অন্য কোনও টোল প্লাজায় এই পাস চলবে না। পাসটি অন্য কাউকে দেওয়ারও সুযোগ নেই।
কোন কোন টোল প্লাজায় এই সুবিধা পাওয়া যাবে, তার তালিকা ১ নভেম্বর থেকে ‘রাজমার্গযাত্রা’ অ্যাপে মিলবে। ওই অ্যাপ থেকেই পাস কেনা যাবে।
আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ব্যবস্থাটিকে ডিজিলকার এবং ‘বাহন’ তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আবেদনকারীর ঠিকানা যাচাই করে দেখা হবে, তিনি সংশ্লিষ্ট টোল প্লাজার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকেন কি না। পাশাপাশি গাড়ির নথি এবং তার সঙ্গে যুক্ত ফাস্ট্যাগের তথ্যও পরীক্ষা করা হবে।
প্রতি বছর বাড়বে দাম?
বার্ষিক পাসের দাম চিরস্থায়ী নয়। সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি বছর এই হার সংশোধন করতে পারে। সংশোধিত হার কার্যকর হবে ১ এপ্রিল থেকে।
১৯৫৬ সালের জাতীয় সড়ক আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ‘জাতীয় সড়ক ফি (হার নির্ধারণ ও আদায়) (পঞ্চম সংশোধনী) বিধি, ২০২৬’-এর মাধ্যমে এই পরিবর্তন বিজ্ঞাপিত হয়েছে।
বর্তমানে সারা দেশে ১৩ কোটিরও বেশি ফাস্ট্যাগ ইস্যু করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাস পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং নিয়মিত টোল দেওয়ার খরচ কমানোই এই নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।