নিজেদের শাসনাধীন কর্নাটকেও খাতা খুলতে পারল না কংগ্রেস। রাজ্যের স্নাতক ও শিক্ষক নির্বাচনী কেন্দ্রের চারটি আসনই জিতে নিয়েছে বিজেপি এবং তার এনডিএ শরিক জনতা দল (সেকুলার) বা জেডিএস।

উত্তরপ্রদেশে বিধান পরিষদের ১১টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে পাঁচটিতে, সমাজবাদী পার্টি (এসপি) তিনটিতে। বাকি তিনটি কেন্দ্রে তখনও গণনা চলছিল।

এই ফল নিয়ে কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। ২৮ অক্টোবর এক্সে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “চারটি বড় রাজ্য—উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার ও কর্নাটকের ২৮টি আসনে বিধান পরিষদের নির্বাচন হয়েছে। ভোট হয়েছে ব্যালট পেপারে। আন্দাজ করুন তো, কংগ্রেস কতগুলি আসনে জিতেছে? ”

গত ২৩ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের ছ’টি শিক্ষক ও পাঁচটি স্নাতক নির্বাচনী কেন্দ্র, বিহারের চারটি শিক্ষক ও চারটি স্নাতক কেন্দ্র, কর্নাটকের দু’টি শিক্ষক ও দু’টি স্নাতক কেন্দ্র এবং মহারাষ্ট্রের তিনটি স্নাতক ও দু’টি শিক্ষক কেন্দ্রে ভোট হয়।

কর্নাটকে চারটি আসনেই হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছে কংগ্রেস। শাসক দলের কাছ থেকে একটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে জেডিএস। অন্য তিনটি আসন ধরে রেখেছে বিজেপি।

উত্তর-পূর্ব শিক্ষক, দক্ষিণ-পূর্ব স্নাতক এবং পশ্চিম স্নাতক নির্বাচনী কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীদের হারিয়ে জয় পেয়েছে বিজেপি। বেঙ্গালুরু শিক্ষক কেন্দ্রটি কংগ্রেসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে জেডিএস।

তবে এই ফল কর্নাটকের ৭৫ সদস্যের বিধান পরিষদে কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রভাব ফেলবে না। সেখানে দলের সদস্যসংখ্যা ৩৮। তা সত্ত্বেও এই জয় বিরোধী জোটকে উজ্জীবিত করেছে। আগামী দিনে ডি কে শিবকুমারের নেতৃত্বাধীন সরকারের উপরে তারা চাপ বাড়াতে পারে।

বিজেপি এবং জেডিএস এই ফলকে রাজ্যে “কংগ্রেসের অপশাসনের” বিরুদ্ধে জয় বলে অভিহিত করেছে।

এনডিএ-র জয়কে “ঐতিহাসিক” বলে বর্ণনা করে জেডিএসের প্রবীণ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী বলেছেন, এই ফল ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্যও একটি বার্তা দিল।

মহারাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোট তিনটি আসনে এগিয়ে ছিল। অন্য দিকে, বিরোধী মহাবিকাশ আঘাড়ি বা এমভিএ-র শরিক শরদ পাওয়ারের এনসিপি (এসপি) এগিয়ে ছিল দু’টি আসনে।

বিহারে বিধান পরিষদের নির্বাচনে প্রথম জয় পেয়েছে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টি (জেএসপি)। বিজেপি, জেডিইউ, আরজেডি এবং এক নির্দল প্রার্থীও একটি করে আসনে জিতেছেন। বাকি তিনটি আসনের ফল তখনও ঘোষণা হয়নি।

দ্বারভাঙা শিক্ষক কেন্দ্রে জন সুরাজ পার্টির সুরেশ প্রসাদ রাই ৩২৪ ভোটে হারিয়েছেন বিদায়ী কংগ্রেস বিধান পরিষদ সদস্য মদনমোহন ঝাকে।

পাটনা স্নাতক কেন্দ্রে জেডিইউ থেকে বহিষ্কৃত নেতা অনন্ত সিংহের বিরোধিতা সত্ত্বেও আরজেডি প্রার্থীকে হারিয়েছেন জেডিইউয়ের নীরজ কুমার। তিরহুত শিক্ষক কেন্দ্রে বিজেপির নরেন্দ্র প্রসাদ সিংহ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, নির্দল প্রার্থী ভূষণ কুমার ঝাকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

তবে পাটনা শিক্ষক কেন্দ্রের বিদায়ী বিজেপি বিধান পরিষদ সদস্য নওয়ালকিশোর যাদব হেরে গিয়েছেন আরজেডির সঞ্জীব কুমারের কাছে। সারণ শিক্ষক কেন্দ্রে বিদায়ী নির্দল সদস্য আফাক আহমেদকে হারিয়েছেন আর এক নির্দল প্রার্থী রাহুল রাজ।

উত্তরপ্রদেশে গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র চার মাস বাকি। সেখানে এলাহাবাদ-ঝাঁসি স্নাতক কেন্দ্রে সমাজবাদী পার্টির মানসিংহ যাদবকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

আগ্রা স্নাতক কেন্দ্রে জিতেছেন বিজেপির মানবেন্দ্র প্রতাপ সিংহ। বরেলি-মোরাদাবাদ শিক্ষক কেন্দ্রটিও ধরে রেখেছে বিজেপি। সেখানে দলের প্রার্থী হরি সিংহ ঢিলোঁ হারিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির দানিশ আখতারকে।

লখনউ শিক্ষক কেন্দ্রে বিজেপির উমেশ দ্বিবেদী ৬,৯৯২ ভোটে হারিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির সুশীল কুমারকে। মেরঠের শিক্ষক ও স্নাতক—দু’টি আসনেই জয় পেয়েছে বিজেপি।

গোরক্ষপুর-ফৈজাবাদ বিভাগের শিক্ষক কেন্দ্রে নির্দল প্রতিদ্বন্দ্বী রাজীব যাদবের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন বিজেপির ধ্রুবকুমার ত্রিপাঠী।

তবে বিজেপিকে ধাক্কা দিয়ে বারাণসী শিক্ষক কেন্দ্রটি ধরে রেখেছেন সমাজবাদী পার্টির লালবিহারী যাদব। বারাণসী স্নাতক কেন্দ্রেও এগিয়ে ছিলেন সমাজবাদী পার্টির আশুতোষ সিনহা। লখনউ স্নাতক কেন্দ্রেও এগিয়ে ছিল সমাজবাদী পার্টি।

আগ্রা-আলিগড় শিক্ষক কেন্দ্রে বিজেপির হরিকিশোর তিওয়ারিকে হারিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী আকাশ আগরওয়াল।

উত্তরপ্রদেশে বিধান পরিষদের এই নির্বাচনে লড়েনি কংগ্রেস এবং বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)। দুই দলের বক্তব্য, তারা ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতেই মন দিতে চায়।

মহারাষ্ট্রের নাগপুর স্নাতক কেন্দ্রে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী সুধাকর কোহালে। অমরাবতী শিক্ষক কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন শিবসেনার কিরণ সারনায়েক।

পুণে শিক্ষক কেন্দ্রে এগিয়ে ছিলেন বিজেপির কৌস্তুভ গাওয়াড়ে।

পুণে স্নাতক কেন্দ্রে জয়ের পথে ছিলেন এনসিপি (এসপি) প্রার্থী হর্ষদা দেশমুখ-যাদব।

ছত্রপতি সম্ভাজিনগর (ঔরঙ্গাবাদ) স্নাতক কেন্দ্রে এনসিপির বিদায়ী বিধান পরিষদ সদস্য সতীশ চহ্বাণের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন এনসিপি (এসপি) প্রার্থী প্রতাপসিংহ পাটিল।