প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘রাবণ’ এবং তেলঙ্গানার কংগ্রেস কর্মীদের ‘বানরসেনা’র সঙ্গে তুলনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি। রবিবার, ১ নভেম্বর, দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে তেলঙ্গানা ভবনে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে এই মন্তব্য করেন তিনি। ভোটার তালিকা থেকে দরিদ্র মানুষের নাম বাদ দিয়ে বিজেপি ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তোলেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী।

রামায়ণের উপমা টেনে রেড্ডির বক্তব্য, রাবণকে পরাজিত করতে রামের সহায়তায় যেভাবে বানরসেনা লঙ্কায় গিয়েছিল, সেভাবেই মোদীকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করতে তেলঙ্গানার কংগ্রেস কর্মীরা দিল্লিতে এসেছেন। রামলীলা ময়দান থেকে কথিত ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

রেড্ডি দাবি করেন, ইতিমধ্যেই ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বিশেষভাবে নিশানা করা হচ্ছে গরিব মানুষকে। তাঁদের ভোটাধিকার সংকুচিত করে মোদীর ক্ষমতায় ফেরার পথ সুগম করার চক্রান্ত চলছে। তবে তাঁর উল্লিখিত সংখ্যাকে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত, স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি বক্তৃতায় করা দাবি।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও তোলেন রেড্ডি। তাঁর অভিযোগ, চারশো আসনের লক্ষ্য সামনে রেখে বিজেপি সংবিধান ও সংরক্ষণব্যবস্থার ওপর আঘাত হানতে চেয়েছিল। কিন্তু মানুষ বিজেপিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না দিয়ে সেই পরিকল্পনা আটকে দেন। তাঁর দাবি, এরপর থেকেই দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও মহিলাদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার মনোভাব নিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

দিল্লিতে কর্মীদের পৌঁছনোর ব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, তেলঙ্গানা থেকে প্রায় ১৫ হাজার কর্মীকে নিয়ে আসতে বিশেষ ট্রেন চাওয়া হয়েছিল। প্রথমে আশ্বাস মিললেও শেষ মুহূর্তে রেল কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করেন। এত বাধার পরেও কর্মীরা রাজধানীতে পৌঁছেছেন বলে তাঁদের অভিনন্দন জানান তিনি। মোদী, অমিত শাহ কিংবা জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের সংকল্প ভাঙতে পারবেন না বলেও দাবি করেন।

তেলঙ্গানা ভবনে পৌঁছলে রেড্ডিকে স্বাগত জানান রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বিধান পরিষদের সদস্য এবং দলীয় নেতাকর্মীরা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি মহেশ কুমার গৌড়ও উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে নেতাকর্মীরা রামলীলা ময়দানের উদ্দেশে রওনা দেন। রাজ্য নেতৃত্বের এই উপস্থিতির মাধ্যমে জাতীয় স্তরের প্রতিবাদে তেলঙ্গানা কংগ্রেসের অংশগ্রহণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে অনিয়মের অভিযোগে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে বিরোধীরা। আগের দিন দিল্লিতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘গণ-অভিশংসন’ কর্মসূচিও হয়েছিল। রবিবারের সমাবেশে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব এবং তেজস্বী যাদবসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতারা যোগ দেন। সমাবেশের আগে মিন্টো রোড ও কনট প্লেস সংলগ্ন এলাকা থেকে মিছিল এগোয় রামলীলা ময়দানের দিকে। বিভিন্ন দলের সমর্থকেরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিরোধীদের অভিযোগ, তালিকা সংশোধনের নামে প্রান্তিক মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন হচ্ছে এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য একাধিকবার থাকা নাম এবং অযোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়া। রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে কমিশন জানিয়েছে, ভুল করে নাম বাদ পড়লে পুনর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে। বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা সমাবেশকে অরাজকতা তৈরির ষড়যন্ত্র বলে আক্রমণ করেন।

রেড্ডির বক্তব্যে ধর্মীয় উপমার ব্যবহার অবশ্য নতুন নয়। অক্টোবরেও গোয়ায় কংগ্রেসের কর্মসূচিতে তিনি বিজেপিকে রাবণ এবং কংগ্রেসকে রামের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেবার গোয়ার ভোটারদের বিজেপিকে পরাস্ত করার আহ্বান জানান। এবার দিল্লির সমাবেশের আগে একই পৌরাণিক অনুষঙ্গ ব্যবহার করে দলীয় কর্মীদের উৎসাহিত করলেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী।