বিজনৌরে বেআইনি ভাবে আটকে রাখা ব্যক্তিকে অন্য কোনও মামলায় প্রয়োজন না থাকলে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। সাত দিনের মধ্যে আবেদনকারীদের মামলার খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা দেওয়ারও নির্দেশ পেল রাজ্য সরকার।

থানার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলে পুলিশ যে অজুহাত দিয়েছে, তার জন্য উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “উত্তরপ্রদেশে নাগরিক স্বাধীনতার যে হাল, তাকে লজ্জাজনক বললেও কম বলা হয়। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রতি পুলিশের শ্রদ্ধা সামান্য বলেই মনে হয়। এই সব অধিকার লঙ্ঘন করা যেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের রোজকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বিজনৌর জেলায় এক ব্যক্তিকে বেআইনি ভাবে পুলিশ হেফাজতে আটকে রাখার অভিযোগে দায়ের করা একটি বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ মামলায় ৩ নভেম্বর এই মন্তব্য করে বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি অচল সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ।

আবেদনটি করেছিলেন ধর্ষণের শিকার এক মহিলা। তাঁর অভিযোগ, বিজনৌরের পুলিশ তাঁর বাবাকে দু’দিন বেআইনি ভাবে আটকে রেখেছিল। তৃতীয় দিনে তোলাবাজির একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

আবেদনকারীর বক্তব্য, ৫ সেপ্টেম্বর ওই মামলার বিষয়ে তাঁর বাবাকে নাগল থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে পৌঁছলে সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরা গাড়ি থেকে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বার করেন। তার পর অন্য একটি গাড়িতে জোর করে তুলে নিয়ে যান। সঙ্গে থাকা এক আত্মীয় মোবাইল ফোনে ঘটনাটি রেকর্ড করতে গেলে পুলিশ তাঁকে বাধা দেয়। ওই আত্মীয় পুলিশ হেল্পলাইনে ফোন করে গোটা ঘটনার কথা জানান। তাতেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। দু’দিন পরে, ৭ সেপ্টেম্বর, থানার নথিতে তাঁর বাবার গ্রেফতার দেখানো হয়।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বেঞ্চ ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত থানার সিসিটিভি ফুটেজ পেশের নির্দেশ দেয়। ৩ নভেম্বর শুনানিতে সরকারি আইনজীবী আদালতকে জানান, ওই সময়ের ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, ৫ সেপ্টেম্বর ঝড়বৃষ্টির সময় ল্যান কেব্‌ল বেয়ে জল ঢুকে সিসিটিভি ব্যবস্থা বিকল হয়ে গিয়েছিল।

এই ব্যাখ্যা খারিজ করে বেঞ্চ বলে, “একের পর এক মামলায় এই আদালত যখনই সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে পাঠায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একই জবাব আসে। কোনও না কোনও কারণে ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। কাউকে বেআইনি ভাবে আটকে রাখার অভিযোগ উঠলে পুলিশ সিসিটিভি বিকল হওয়ার অজুহাত দিতে পারে না। এমন বক্তব্যই আদালতের এই সিদ্ধান্তে আসার পক্ষে যথেষ্ট যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বেআইনি ভাবে আটকে রাখা হয়েছিল এবং অসৎ উদ্দেশ্যে সত্য আড়াল করতেই ইচ্ছা করে আদালতকে সিসিটিভি ফুটেজ দেওয়া হচ্ছে না।”

বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, “আবেদনকারীর বাবাকে বেআইনি ভাবে আটক করার পরেই আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাই অন্য কোনও মামলায় তাঁকে প্রয়োজন না থাকলে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।” আবেদনকারীরা মামলার খরচ চেয়েছিলেন। আদালত সেই খরচ ধার্য করেছে ২০ হাজার টাকা। নির্দেশের দিন থেকে সাত দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারকে ওই টাকা দিতে হবে। তা না দিলে নির্দেশ কার্যকর করাতে আবেদনকারীরা মামলাটি ফের আদালতে তুলতে পারবেন।

বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ইচ্ছা করেই সিসিটিভি ফুটেজ দেননি। আদালত নির্দেশ দেয়, ওই আধিকারিকের চাকরির নথিতে আদালতের অসন্তোষ লিপিবদ্ধ করতে হবে। তাঁকে বর্তমান পদে বহাল রাখা হবে কি না, রাজ্য সরকারের তা বিবেচনা করা উচিত বলেও জানায় বেঞ্চ।