কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের কাছে একটি বিলাসবহুল হোটেল প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনায় ১২ জুলাই প্রণব দোলেকে গ্রেফতার করে গোলাঘাট পুলিশ। ২৯ জুলাই স্থানীয় আদালত তাঁকে জামিন দেয়। তার পরদিনই অসম সরকার তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় সুরক্ষা আইন (এনএসএ) প্রয়োগ করে। সরকারের বক্তব্য ছিল, তাঁর কার্যকলাপ “জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও রাজ্যের নিরাপত্তার পক্ষে ক্ষতিকর”।

বৃহত্তর কাজিরাঙা ভূমি ও মানবাধিকার কমিটির আহ্বায়ক দোলে। এই প্রকল্পের কী প্রভাব পড়তে পারে, এলাকার আদিবাসী গ্রামবাসীরা কীভাবে ভিটেমাটি হারাতে পারেন, তা নিয়ে তিনি সরব।

দোলে বলেন, “আমরা দেখছি, যাঁরা প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের দমন করতে গোটা প্রশাসনকে কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে… পুলিশ নামানো হচ্ছে, গভীর রাতে লোকজনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।”

১১৫ দিনেরও বেশি জেলে কাটানোর অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “হেফাজতে থাকাটা যে কতটা অমানবিক, কতটা নিপীড়ন আর অপমান সইতে হয়, তা ভাষায় বোঝানো কঠিন… মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাইলে এই সব বাধা পেরিয়েই এগিয়ে যেতে হয়।”

দোলের কথায়, গত চার মাসে তিনি দেখেছেন, অধিকারের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে তরুণ প্রজন্ম প্রস্তুত। “ওদের সারাক্ষণ হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবু নিজেদের উদ্বেগের কথা বলতে, অধিকার আর সত্যের জন্য লড়তে ওরা ভয় পায় না। এ দৃশ্য দেখে ভরসা পাই, আশাও জাগে।”

তাঁর বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন বৃদ্ধ বাবা-মা, প্রতিবেশী, সহকর্মী আর শুভাকাঙ্ক্ষীরা। দোলে বলেন, “অনেকেই আমাকে নিতে জেলের ফটকে এসেছিলেন। আরও অনেকে প্রায় সারা রাত আমাদের বাড়ি ঘিরে পাহারা দিয়েছেন, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, প্রশাসন ফের কোনও পদক্ষেপ না করে। কেমন যেন আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন মানুষ।”