২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে মুম্বইয়ের বর্তমান বিমানবন্দর থেকে বছরে ৫০ লক্ষ যাত্রীর যাতায়াত অন্যত্র সরাতে চায় পরিচালন সংস্থা এমআইএএল। ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির উড়ান স্থানান্তরের পরিকল্পনায় এর মধ্যে ৩০ লক্ষ যাত্রীর হিসাব মিলেছে। দেশীয় সংস্থাগুলির আপত্তির পর এ বার সরব এমিরেটস ও এয়ার ফ্রান্সও। কেন এই বিরোধ?
টার্মিনাল ১বি-র পুনর্নির্মাণের কাজের জন্য জায়গা করে দিতে ২০২৭ সালের মার্চের শেষের মধ্যে মুম্বইয়ের বর্তমান বিমানবন্দর থেকে বছরে ৫০ লক্ষ যাত্রীর যাতায়াত সরিয়ে নিতে চায় মুম্বই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড বা এমআইএএল। ভারতীয় বিমান সংস্থা আকাসা এয়ার, ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই তাদের আন্তর্জাতিক উড়ান নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। প্রথম দফার স্থানান্তর শুরু হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে। এই সংস্থাগুলির উড়ান সরলে বছরে ৩০ লক্ষ যাত্রীর যাতায়াত স্থানান্তরিত হবে। ফলে এমআইএএলের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আরও ২০ লক্ষ যাত্রীর ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
বুধবার মুম্বইয়ের এয়ারলাইন অপারেটর্স কমিটি বা এওসি-র সঙ্গে এমআইএএলের ৯০ মিনিটের বৈঠকেও কার্যত কোনও নিষ্পত্তি হয়নি। বিদেশি বিমান সংস্থাগুলি স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। তবে নিজেদের লক্ষ্যমাত্রায় অনড় রয়েছে এমআইএএল।
এমিরেটসের যুক্তি, আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলির বিপুল পরিসরের পরিষেবা সামলানোর মতো পরিচালন সক্ষমতা নবি মুম্বই বিমানবন্দরের নেই। অন্য দিকে, দুই বিমানবন্দরের মধ্যে পরিষেবা ভাগ করে চালানোকে ‘পরিচালনগত দিক থেকে অদক্ষ ব্যবস্থা’ বলে অভিহিত করে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এয়ার ফ্রান্স–কেএলএম।
বিরোধের সূত্রপাত এমআইএএলের একটি প্রস্তাবকে ঘিরে। টার্মিনাল ১বি-র উত্তরাংশ পুনর্নির্মাণের কারণে সেখানকার যাত্রীচাপ সামলাতে টার্মিনাল ২ থেকে আন্তর্জাতিক উড়ানের সংখ্যা ৩৩ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। অর্থাৎ, সাপ্তাহিক ৭৭০টি আন্তর্জাতিক প্রস্থানের মধ্যে ২৬৫টি সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। পুনর্নির্মাণের কাজ আগে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা ছিল। এওসি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করার পর অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক উভয় পক্ষকে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে একটি স্থানান্তর পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেয়।
সূত্রের খবর, বুধবার এমআইএএল বিমান সংস্থাগুলিকে জানিয়েছে, টার্মিনাল ২-এর বার্ষিক যাত্রী সামলানোর ক্ষমতা আরও ৫০ লক্ষ বাড়ানোর পরিকল্পনা নির্ধারিত ২০২৭ সালের সময়সীমা থেকে দু’বছর পিছিয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটি আশ্বাস দিয়েছে, টার্মিনাল ১-এর পুনর্নির্মাণ শেষ হলে নবি মুম্বই বিমানবন্দরে সাময়িক ভাবে সরিয়ে নেওয়া উড়ান ও যাত্রী চলাচল ফের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনা হবে।
এওসি ফের জানায়, টার্মিনাল ২-এর ক্ষমতা কমানোর যে কোনও সিদ্ধান্তে ২০১৩ সালের উড়ানের সময় বরাদ্দ সংক্রান্ত ‘স্লট’ নির্দেশিকা মানতে হবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে। স্থানান্তরের পরিকল্পনা তৈরির জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিমান সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে এওসি। তাদের প্রস্তাব, ২০২৭ সালের মার্চের শেষ থেকে শুরু হতে চলা গ্রীষ্মকালীন উড়ানসূচিতে স্থানান্তর কার্যকর না করে, অক্টোবরের শেষ থেকে শুরু হওয়া শীতকালীন উড়ানসূচি ধরে পরিকল্পনা করা হোক।
বৈঠকে পুনর্নির্মিত টার্মিনাল ১-এর পরিকল্পনাও তুলে ধরেছে এমআইএএল। এর মধ্যে রয়েছে টার্মিনালের সামনের রাস্তার ধারে আগমন ও প্রস্থানের যাত্রীদের ওঠানামার জায়গা, চেক-ইন হল, দ্রুত লাগেজ সংগ্রহের ব্যবস্থা এবং উড়ানে ওঠার আগে যাত্রীদের অপেক্ষার জায়গা।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।