বাংলাস্ফিয়ার: মাত্র ৫ টাকার চিপ্‌সের প্যাকেট। গায়ে লেখা ছিল ১৫ গ্রাম। কিন্তু প্যাকেট খুলে ওজন করতে গিয়ে দেখা গেল, ভিতরে রয়েছে মাত্র ৪ গ্রাম চিপ্‌স। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বহুজাতিক খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা পেপসিকোকে গ্রাহককে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিল উপভোক্তা কমিশন। শুধু প্যাকেটের দাম ফেরত দিলেই হবে না, দিতে হবে সুদও। পাশাপাশি মানসিক হয়রানি এবং মামলার খরচ বাবদ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম ‘লাইভ ল ডট ইন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি রাজস্থানের জয়পুরের। সংশ্লিষ্ট জেলা উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন-২ এই মামলায় পেপসিকো ইন্ডিয়া হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেডকে দায়ী করেছে। অন্য দিকে, যে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পণ্যটি কেনা হয়েছিল, সেই মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে কমিশন।

কীভাবে সামনে এল ওজনের গরমিল?

মামলাকারী চন্দ্রমান জালানের দাবি, ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নের জন্য তিনি মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি থেকে বেশ কিছু খাদ্যপণ্য কেনেন। সেই কেনাকাটার তালিকায় ছিল ৫ টাকা দামের একটি লে’জ় চিপ্‌সের প্যাকেট। কেনাকাটার পর তাঁকে চালানপত্রও দেওয়া হয়েছিল।

জালানের বক্তব্য, অতিথিদের পরিবেশনের সময় প্যাকেটটি অস্বাভাবিক হালকা মনে হয় তাঁর। সন্দেহ হওয়ায় প্যাকেটের ভিতরে থাকা চিপ্‌স ওজন করে দেখেন তিনি। তখনই ধরা পড়ে গরমিল। প্যাকেটের গায়ে ১৫ গ্রাম চিপ্‌স থাকার উল্লেখ থাকলেও, বাস্তবে পাওয়া যায় মাত্র ৪ গ্রাম।

এর পর বিষয়টি মেট্রো কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন তিনি। কিন্তু অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি হয়নি বলে দাবি করেন জালান। শেষ পর্যন্ত পরিষেবায় ত্রুটি এবং অন্যায্য ব্যবসায়িক অনুশীলনের অভিযোগ তুলে ২০২২ সালের ৬ এপ্রিল উপভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হন তিনি।

কী বলেছিল বিক্রেতা সংস্থা?

মামলায় মেট্রো কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, চিপ্‌সের পরিমাণে কোনও ঘাটতি হয়ে থাকলে তা উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময় ঘটতে পারে। সে ক্ষেত্রে দায় প্রস্তুতকারক সংস্থার, বিক্রেতার নয়। এই মামলায় পেপসিকোকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে নোটিশ পাওয়ার পরেও সংস্থাটি কমিশনের সামনে হাজির হয়নি। ফলে তাদের অনুপস্থিতিতেই মামলার শুনানি এগোয়।

মামলাকারীর পেশ করা প্রমাণ, কেনাকাটার রসিদ এবং ওজন সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর কমিশন বিক্রেতা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করে দেয়। অন্য দিকে, পেপসিকোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কত টাকা দিতে হবে পেপসিকোকে?

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্যাকেটের দাম বাবদ ৫ টাকা ফেরত দিতে হবে গ্রাহককে। এর সঙ্গে ২০২২ সালের ৬ এপ্রিল থেকে টাকা পরিশোধের দিন পর্যন্ত বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।

এ ছাড়াও মানসিক হয়রানির জন্য ৫,০০০ টাকা এবং মামলার খরচ বাবদ ৩,০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ৮,০০০ টাকা এক মাসের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা দেওয়া না হলে, ওই ৮,০০০ টাকার উপরও আদেশের তারিখ থেকে টাকা পরিশোধ পর্যন্ত বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হবে।

অর্থাৎ, মাত্র ৫ টাকার একটি চিপ্‌সের প্যাকেট ঘিরে শুরু হওয়া বিরোধে পেপসিকোকে মোট ৮,০০৫ টাকা এবং প্রযোজ্য সুদ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ঘটনাটি ফের মনে করিয়ে দিল, প্যাকেটজাত পণ্যের গায়ে উল্লেখিত পরিমাণ এবং বাস্তবে পাওয়া পণ্যের মধ্যে গরমিলের অভিযোগ উঠলে গ্রাহক উপভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারেন।