ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে চলতে থাকা আন্দোলনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ভাঙচুর এবং একাধিক প্রবেশদ্বার ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ তুললেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তাতে দেখা যাচ্ছে, একদল মানুষ গেটের কাছে জড়ো হয়ে স্লোগান দিচ্ছেন এবং গেট বেয়ে উপরে উঠছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘একদল লোক বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকে পড়ে। তাদের কারও মুখ ঢাকা ছিল, কারও হাতে ছিল লাঠি। তারা প্রবেশপথগুলির কাছে গেট ও অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষতি করেছে। ৪সি নম্বর গেটটি সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মসজিদের গেটও ক্ষতিগ্রস্ত। একাধিক প্রবেশপথে ভাঙচুর হয়েছে।’’

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল এবং নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিন ও সময়সূচি ঘোষণার দাবিতে গত ১২ অক্টোবর থেকে আন্দোলন করছেন পড়ুয়ারা। মঙ্গলবার সেই আন্দোলন ১৬ দিনে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের একাংশ অনশনেও রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৫ সালের পর থেকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলেই নির্বাচন আয়োজন করা হবে। কিন্তু এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের একাংশ উপাচার্য মাজহার আসিফকে চিঠি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশ সংশোধনের দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, ওই নির্দেশে তাঁদের দাবিগুলি পুরোপুরি মেটানো হয়নি।

১২ অক্টোবর থেকে অনশনরত পাঁচ পড়ুয়ার মধ্যে তিন জন অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি, আন্দোলনকারীদের অবস্থানস্থল ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিসও দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ না মানলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা এবং আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী জানান, আলোচনা চলছে। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের কাছে ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি না করার আবেদন জানান তিনি।

যোশী বলেন, ‘‘অনেক চেষ্টা করা হয়েছে… ২০০৬ সাল থেকে নির্বাচন হয়নি, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। আলোচনা চলছে। কারও আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরির চেষ্টা করা উচিত নয়। এটাই আমার আবেদন। উপাচার্য-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাকি বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছেন।’’

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পুলিশের বাস ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের গাড়ি মিলিয়ে ১৫টিরও বেশি যান মোতায়েন ছিল। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ছিল কাঁদানে গ্যাসের শেল। এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় পুলিশ বারবার ঘোষণা করে দলবদ্ধভাবে বাইরে না বেরোনোর এবং বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিচ্ছিল।

অন্য দিকে, আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, জামিয়ার এক পিএইচডি গবেষক বলেন, ‘‘এটা জামিয়া প্রশাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ওরা গেটগুলি বন্ধ করে দিয়েছে, জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেছে, শৌচাগার বন্ধ করে দিয়েছে, আমাদের কাছে খাবার পৌঁছতে বাধা দিয়েছে। পড়ুয়াদের নিজেদের ক্যাম্পাসেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা হিংসাকে সমর্থন করি না। প্রথম দিন থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছি।’’