বাংলাস্ফিয়ারঃ মারাঠা সংরক্ষণ আন্দোলনের নেতা মনোজ জারাঙ্গে-পাটিলের প্রকাশ করা একটি অডিয়ো ঘিরে মহারাষ্ট্রের শাসক জোট মহাযুতির অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে এল। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ওই অডিয়োর ফরেনসিক পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। অন্যদিকে, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে রাজনৈতিক ভাবে ‘শেষ’ করতে বিজেপির একাংশ ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন শিবসেনা নেতা রামদাস কদম।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ৫০০ কোটি টাকা লেনদেনের একটি অভিযোগ। বৃহস্পতিবার জারাঙ্গে যে অডিয়ো প্রকাশ করেন, তাতে এক মহিলাকে বলতে শোনা যাচ্ছে বলে দাবি, শিন্ডের ছেলে তথা সাংসদ শ্রীকান্ত শিন্ডের মাধ্যমে জারাঙ্গের কাছে ওই টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। রেকর্ডিংয়ে ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মারাঠাওয়াড়ায় জারাঙ্গের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলার কথাবার্তাও রয়েছে বলে অভিযোগ। তবে এই দাবিগুলি এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
জারাঙ্গে কোনও টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে চুপ করানো এবং সংরক্ষণ আন্দোলন দুর্বল করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। শিন্ডে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রমাণ পেশের চ্যালেঞ্জ জানানোর পরেই জারাঙ্গে অডিয়োটি প্রকাশ করেন। ফলে রেকর্ডিংয়ে অর্থ লেনদেনের দাবি এবং বাস্তবে টাকা দেওয়া হয়েছিল কি না—এই দুই প্রশ্নকে আলাদা করে দেখা জরুরি। অডিয়ো প্রকাশ নিজেই লেনদেনের প্রমাণ নয়।
নাগপুরে ফডণবীস জানান, শিবসেনা, বিজেপি এবং জারাঙ্গে—সব পক্ষই তদন্ত চেয়েছে। প্রকাশ্যে আসা কথোপকথন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হবে। এত দিন পরে রেকর্ডিং সামনে আনার উদ্দেশ্য কী এবং কাকে নিশানা করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।
মুম্বইয়ে সাংবাদিক বৈঠকে কদম সরাসরি বিজেপির একাংশের দিকে আঙুল তোলেন। তাঁর অভিযোগ, জারাঙ্গের সঙ্গে যোগসাজশ করে শিন্ডে ও শিবসেনাকে রাজনৈতিক ভাবে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। অডিয়োটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে বিজেপির তরফে যে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে, তা-ও খারিজ করেন তিনি। কদমের দাবি, রেকর্ডিংয়ের বক্তারা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। যদিও তাঁর এই দাবিরও স্বাধীন যাচাই হয়নি।
জারাঙ্গের সঙ্গে বিজেপি নেতা প্রসাদ লাডের একসঙ্গে খাওয়ার ছবি দেখিয়ে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কদম। প্রবীণ দারেকরের নামও উল্লেখ করেন তিনি। বিস্তারিত তদন্ত চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ফডণবীস এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানান শিবসেনা নেতা।
পাল্টা জবাবে দারেকর জানান, জোটে থেকে প্রধান শরিকের বিরুদ্ধে এমন আক্রমণ বিজেপি মেনে নেবে না। শিন্ডেকে মুখ্যমন্ত্রী করার সময় বিজেপি সমর্থন দিয়েছিল বলে মনে করিয়ে দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মতভেদ থাকলে জোটের প্রবীণ নেতাদের আলোচনায় তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগ জোটের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায়। লাডও বিভেদ তৈরি করতে পারে, এমন মন্তব্য থেকে কদমকে বিরত থাকতে বলেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন বর্ষায় গিয়ে তদন্তের আবেদন জানিয়েছিল শিবসেনার প্রতিনিধিদল। তাদের দাবি, রেকর্ডিংয়ের সত্যতা, বক্তাদের পরিচয় এবং সম্পাদনা বা বিকৃতির সম্ভাবনা পরীক্ষা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের কথাও বলা হয়েছে। যে মহিলা অর্থ লেনদেনের দাবি করেছেন বলে অভিযোগ, তাঁর বক্তব্যের ভিত্তি এবং সমর্থনে কোনও প্রমাণ রয়েছে কি না, তা-ও জানতে চেয়েছে দল। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী ধরে না নেওয়ার কথাও তাদের আবেদনে রয়েছে। আপাতত অডিয়োর সত্যতা ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অমীমাংসিত থাকলেও, ঘটনাটি শাসক জোটের শরিকদের পারস্পরিক অবিশ্বাস প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।