ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ১ নভেম্বরের সমাবেশকে সমর্থন জানাল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বুধবার সংগঠনের তরফে এই ঘোষণা করা হয়েছে। দিল্লির রামলীলা ময়দানে প্রস্তাবিত সমাবেশের অন্যতম দাবি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। সেই দাবিতে সুর মিলিয়ে সিজেপি জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন।
সংগঠনটির অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের বক্তব্য, গণতন্ত্রের ভিত্তি হল নাগরিকের হাতে সরকার নির্বাচনের ক্ষমতা। কোন নাগরিক ভোট দিতে পারবেন, তা সরকার নিজের সুবিধামতো নির্ধারণ করবে—এমন পরিস্থিতি সেই ভিত্তির বিরোধী। সিজেপির দাবি, তালিকা সংশোধনের নামে এই নীতিই ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সে কারণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্বাসযোগ্যতা জ্ঞানেশ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তারা।
বিবৃতিতে সংবিধান প্রণেতাদের ভাবনার কথাও তুলে ধরেছে সিজেপি। বি আর আম্বেদকর এবং জওহরলাল নেহরুর উল্লেখ করে সংগঠনটি জানিয়েছে, জাতপাত, ধর্ম, লিঙ্গ, শিক্ষা কিংবা আর্থিক অবস্থার পার্থক্য সত্ত্বেও প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে সমান ভোটাধিকার দেওয়ার মধ্যে ছিল মানুষের উপর গভীর আস্থা। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সকলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ছিল সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রেও সেই অন্তর্ভুক্তির ভাবনা বজায় রাখা দরকার বলে তাদের বক্তব্য।
সিজেপির মতে, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার আরও বেশি মানুষকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার পথ খুলবে। বৈধ ভোটারের সামনে নতুন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষা করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বলেও মনে করিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি। দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত সমস্ত সংগঠনকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে তারা। বিবৃতির শেষে রয়েছে ‘জয় ভীম’ ও ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান।
এক্সে সমর্থনের ঘোষণা করেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিদায়ের দাবি তুলেছেন। সংগঠনের আর এক নেতা সৌরভ দাসও ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির দাবিতে সমাবেশকে সমর্থন করেছেন। তবে সমর্থন ঘোষণার অর্থ সিজেপি নেতাদের সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিতি কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দীপকে বা অন্য নেতারা সেখানে যোগ দেবেন কি না, সেই বিষয়েও নিশ্চিত ঘোষণা মেলেনি।
এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে কংগ্রেস এবং সিজেপি একই বিষয়ে সরব হলেও তাদের আন্দোলন চলছিল পৃথকভাবে। ১০ অক্টোবর দিল্লিতে সিজেপির প্রতিবাদে কংগ্রেস যোগ দেয়নি; নিজেদের দেশব্যাপী কর্মসূচির কথা জানিয়েছিল দলটি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বাম দলগুলি, শিবসেনা (উদ্ধব) এবং এনসিপি (শরদ) সিজেপির আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিল। ফলে নতুন ঘোষণায় দুই প্রতিবাদী ধারার মধ্যে যোগাযোগ আরও স্পষ্ট হল।
দীপকে আগে জানিয়েছিলেন, সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হবে না তাঁর সংগঠন। তবে অভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিরোধিতাও করছে না তারা। সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এই পটভূমিতে নভেম্বরের সমাবেশে সমর্থন বিরোধীদের নির্বাচনী স্বচ্ছতার দাবিকে আরও বিস্তৃত পরিসর দিচ্ছে। যদিও এর থেকে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত টানা যায় না।
দিল্লি পুলিশ ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানের সমাবেশের জন্য অনাপত্তি দিয়েছে। ওই দিনের সমাবেশের জন্য সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় নির্দিষ্ট করা হয়েছে। অনুমতির সঙ্গে কিছু শর্তও দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বিরোধীদের যৌথ কর্মসূচিতে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে অভিযোগগুলিই সামনে থাকবে। তবে নির্বাচন কমিশন এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে আইনসম্মত এবং সর্বসম্মত বলে জানিয়েছে। তাই ভোটার বাদ দেওয়া কিংবা পক্ষপাতের অভিযোগগুলি এখনও বিরোধী দল ও আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির দাবি হিসেবেই
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।