চারধাম যাত্রায় প্রতিটি চার্টার হেলিকপ্টার উড়ানে দু’জন পাইলট রাখা বাধ্যতামূলক করায় ২ নভেম্বর থেকে পরিষেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিল হেলিকপ্টার পরিচালনাকারী সংস্থাগুলি। রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, তারা জানিয়েছে, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ) এবং উত্তরাখণ্ড সিভিল অ্যাভিয়েশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ইউসিএডিএ)-র এই নির্দেশ কার্যকর হলে আর্থিকভাবে পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।
গত ৩০ অক্টোবর উত্তরাখণ্ডের জোশীমঠে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পাইলট-সহ ছ’জনের মৃত্যুর পর চারধাম হেলিকপ্টার পরিষেবায় দু’জন পাইলট রাখার নিয়ম চালু করা হয়।
কিন্তু দুর্ঘটনার পর নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাগুলি। তাদের অভিযোগ, উড়ানপথে ড্রোন ও প্যারাগ্লাইডিংয়ের মতো নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ উপেক্ষা করে কর্তৃপক্ষ বারবার দায় চাপিয়ে দেয় পরিচালনাকারী সংস্থা এবং পাইলটদের উপর।
বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছে যৌথভাবে পাঠানো একটি চিঠিতে সংস্থাগুলি অবিলম্বে নির্দেশটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, কোনও আলোচনা ছাড়াই এবং ব্যবসার উপর প্রভাব যাচাই না করেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এর ফলে পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া আর্থিকভাবে অসম্ভব হয়ে উঠবে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “বর্তমান ব্যবসায়িক কাঠামো, প্রচলিত চার্টার ভাড়া এবং সীমিত লাভের সুযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই অতিরিক্ত খরচ সংস্থাগুলির পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।” যাত্রীদের উপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপানোও বাণিজ্যিকভাবে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে তারা।
সংস্থাগুলির বক্তব্য, দু’জন পাইলট রাখার শর্তে কর্মী খাতে ব্যয়, তাঁদের থাকার খরচ এবং আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তাই কর্তৃপক্ষ নির্দেশটি পর্যালোচনা করে উভয় পক্ষের পক্ষে কার্যকর কোনও সমাধানে না পৌঁছনো পর্যন্ত ২ নভেম্বর থেকে চারধামের চার্টার হেলিকপ্টার পরিষেবা স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
একটি হেলিকপ্টার সংস্থার প্রতিনিধি বলেন, “ইউসিএডিএ-র সিইও নিজেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলেই উড়ানের অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল। মাটি থেকে তোলা ভিডিওতেও দেখা যাচ্ছে, পাহাড় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল এবং হেলিকপ্টারটি ১০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় উড়ছিল।”
তাঁর মতে, হেলিকপ্টারটি হঠাৎ নীচে পড়ে যাওয়ার পিছনে দু’টি সম্ভাবনা থাকতে পারে—পাইলটের আকস্মিক গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা, অথবা বাইরে থেকে কোনও বস্তু হেলিকপ্টারে আঘাত করা।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চারধাম হেলিকপ্টার পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত আর একটি সংস্থার প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, মন্দিরে যাতায়াতের উড়ানপথের কাছে ড্রোন ও প্যারাগ্লাইডিং নিয়ে ইউসিএডিএ-র কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও তা গুরুত্ব পায়নি।
তিনি বলেন, “প্রায় প্রতিটি বৈঠকেই আমরা অভিযোগ জানিয়েছি যে ড্রোন ও প্যারাগ্লাইডিংয়ের কারণে উড়ানে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি জোশীমঠে দুর্ঘটনার দিনও ভারতীয় সেনাবাহিনী একটি নোটাম বা ‘নোটিস টু এয়ার মিশনস’ জারি করেছিল।” জোশীমঠে সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
এই অভিযোগের জবাবে ইউসিএডিএ-র সিইও প্রতীক জৈন জানান, হেলিকপ্টারের সঙ্গে কোনও ড্রোনের ধাক্কা লেগেছিল কি না, সেই সম্ভাবনা ইতিমধ্যেই তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাটি থেকে তোলা দুর্ঘটনার একটি ভিডিওতে হেলিকপ্টারের কাছে অন্য একটি বস্তুকে উড়তে দেখা গিয়েছে। ওই ভিডিওটির উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
জৈন বলেন, “ড্রোন ও প্যারাগ্লাইডিং নিয়ে হেলিকপ্টার সংস্থাগুলি যে উদ্বেগ জানিয়েছে, তা মোকাবিলায় আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। হেলিকপ্টার চলাচলের জন্য সুনির্দিষ্ট উড়ানপথও নির্ধারণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনগুলিকে মন্দিরের কাছে বা হেলিকপ্টারের উড়ানপথ বরাবর ড্রোন ওড়ানোর অনুমতি না দিতে বলা হয়েছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীকেও একই অনুরোধ জানানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে জৈন বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে এবং কীভাবে এর সমাধান করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।