ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) সংলগ্ন অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে মুখোমুখি সংঘাত অব্যাহত—ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (ITBP)-এর ডিরেক্টর জেনারেল শত্রুজিৎ সিং কাপুরের এমন চাঞ্চল্যকর দাবির পর জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। তবে আইটিবিপি ডিজি-র এই বক্তব্যকে প্রকাশ্যে খারিজ করে অরুণাচল প্রদেশের নগরোন্নয়ন ও অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক বালো রাজা দাবি করেছেন যে, ভারত এখন অত্যন্ত শক্তিশালী একটি রাষ্ট্র এবং দেশের গোয়েন্দা সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সম্প্রতি রাজস্থানের অলওয়ারে আইটিবিপির এক অনুষ্ঠানে ডিজি শত্রুজিৎ সিং কাপুর নিশ্চিত করেন যে, গত জুলাই মাস থেকে অরুণাচল প্রদেশের তাকসিং এলাকা সহ একাধিক সীমান্ত পয়েন্টে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর সংঘাত চলছে। চীনা সেনারা ভারতীয় টহলদারি দলকে নির্দিষ্ট টহল পয়েন্টে যেতে বাধা দিচ্ছে বলে জানা যায়। আইটিবিপি প্রধানের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ইটানগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অরুণাচল প্রদেশের মন্ত্রী বালো রাজা। তিনি ডিজি-র পদের ভুল উল্লেখ করে বলেন, “ডিআইজি পদে থেকে এমন মন্তব্য কেন করবেন? নিজেকে বা দেশকে কেন দুর্বল হিসেবে তুলে ধরবেন? ভারত এখন অত্যন্ত শক্তিশালী। দেশের গোয়েন্দা ক্ষমতা কতটা বেড়েছে, তা বুঝতে স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar) সিনেমাটি দেখা উচিত।”

অন্যদিকে, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আইটিবিপি প্রধানের স্বীকারোক্তি সামনে আসার পরেই কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদী সরকারকে তীব্র নিশানা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। গত ২৪ অক্টোবর এক বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, চীন সেনার অনুপ্রবেশ এবং ভারতীয় বাহিনীর টহলদারিতে বাধা দেওয়ার সত্যতা এতদিন দেশবাসীর কাছ থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে স্পষ্টীকরণের দাবি জানান তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদেশ মন্ত্রক (MEA)-এর তরফে জানানো হয়েছে যে, চীন সেনা নির্ধারিত টহলদারি নিয়ম লঙ্ঘন করার কারণেই সীমান্তে সময়ে সময়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় কোনো রকম ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে উভয় দেশই কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনার মাধ্যমে বকেয়া সমস্যাগুলি সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে। সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির জন্য অত্যন্ত জরুরি বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।