১ নভেম্বর ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ করে রাহুল গান্ধী ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী হত্যাকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ক্ষতে নুন ছেটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার চণ্ডীগড়ের একটি অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, সমাবেশের দিন বদলানোর জন্য বারবার আবেদন জানানো হলেও কংগ্রেস তাতে কান দেয়নি।
শাহ বলেন, বিজেপি প্রথমে ভেবেছিল, ওই সময় রাহুলের বয়স কম ছিল এবং ইতিহাসেও তাঁর আগ্রহ নেই বলে তিনি হয়তো দিনটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য জানেন না। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, বারবার অনুরোধের পরেও কংগ্রেস ওই দিনেই সমাবেশ করার সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শিখ সম্প্রদায়ের ভাবাবেগের কথা বিবেচনা করে ১, ২ ও ৩ নভেম্বর সমাবেশ না করার জন্য বিজেপি প্রকাশ্যেই কংগ্রেসকে অনুরোধ করেছিল।
তিনি বলেন, “হাজার হাজার শিখকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। শিশুরা অনাথ হয়েছিল, মহিলারা বিধবা হয়েছিলেন, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।” দেশ এবং পঞ্জাব কখনও সেই হিংসার কথা ভুলবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবে রবিবার ‘চলো দিল্লি’ সমাবেশ করে ইন্ডিয়া জোট। তার আগের দিন বিরোধী নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতীকী ‘জনতার অভিশংসন’-এর আয়োজন করেছিলেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কাজে সহায়তা করার অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
রাহুলের ‘মহব্বত কি দুকান’ বা ‘ভালোবাসার দোকান’ স্লোগান টেনে শাহ বলেন, সমাবেশের জন্য এই দিনটি বেছে নিয়ে কংগ্রেস ভালোবাসার বদলে ঘৃণাই বিলিয়ে দিচ্ছে।
তাঁর কথায়, “গণহত্যার সেই অন্ধকার দিনগুলিতেই যদি কংগ্রেস বিরাট সমাবেশ করতে চায়, তা হলে রাহুলজি, আপনার ‘ভালোবাসার দোকান’ থেকে ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার নেই।”
শাহ বলেন, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পরে নরেন্দ্র মোদীর সরকার ১৯৮৪ সালের দাঙ্গা-সংক্রান্ত মামলাগুলি নতুন করে খুলেছিল। তাঁর দাবি, “কোনও রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় এমন দাঙ্গা ভারত আগে কখনও দেখেনি, ভবিষ্যতেও কখনও দেখবে না।”
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ উপেক্ষার অভিযোগ
দিল্লির ব্যবসায়ীদের উদ্বেগকেও কংগ্রেস উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করেন শাহ। তাঁর দাবি, দীপাবলির কেনাকাটার ভরা মরশুমে এই সমাবেশ পড়ায় ব্যবসায়ীরা বারবার রাহুলকে তা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।
শাহ বলেন, ব্যবসায়ীরা চিঠি লিখে এবং সাংবাদিক বৈঠক করে দিন পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসার মরশুমে এই সমাবেশ বেচাকেনায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
তাঁর কথায়, “তাঁরা তিন-চার বার সাংবাদিক বৈঠক করেছেন, চিঠি লিখেছেন, অনুনয় করে বলেছেন—সমাবেশটা দীপাবলির পরে করুন। কিন্তু ওঁরা শিখ হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিবিজড়িত দিনেই তা করার জেদ ধরে রইলেন।”
কংগ্রেসকে নির্বাচনী পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে শাহ বলেন, “গত তিনটি নির্বাচনে আপনারা দিল্লিতে খাতাই খুলতে পারেননি। আমার কথা মনে রাখবেন, আগামী তিনটি নির্বাচনেও সেখানে আপনাদের খাতা খুলবে না।”
শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতীকী ‘জনতার অভিশংসন’ নিয়েও কটাক্ষ করেন শাহ। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হতে চাইলে সারা জীবন ওই ‘নকল সংসদেই’ থাকুন। আপনার সুযোগ কোনও দিন আসবে না।”
বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, অরাজকতা সৃষ্টি এবং সংসদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাহুলকে আক্রমণ নিতিন নবীনেরও
ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ নিয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও। হরিয়ানার রোহতকে ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ পদযাত্রায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “শিখ ভাইদের সঙ্গে যা করা হয়েছিল, তার জন্য কংগ্রেসের উচিত ছিল প্রায়শ্চিত্ত করা এবং ক্ষমা চাওয়া। তার বদলে ওরা প্রতিবাদ করতে বেরিয়েছে।”
নবীনের দাবি, কংগ্রেস জনাদেশ পায়নি বলেই “স্পষ্টত হতাশা ও ক্ষোভে ভুগছে এবং তার জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দায়ী করছে”।
কংগ্রেস নেতাদের উদ্দেশে তাঁর চ্যালেঞ্জ, আগে রাহুল গান্ধীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘রাজতন্ত্র’-এর অবসান ঘটান এবং নিজেদের দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করুন।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।