নভেম্বরের শুরুতেই দিল্লির বাতাস ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বুধবার, ৪ নভেম্বর, শহরের গড় বায়ুমান সূচক বা একিউআই ছিল ৩৭৭। প্রায় ১০ মাসের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ।দিল্লির ২২টি নজরকেন্দ্রে বাতাসের মান ‘ভয়াবহ’ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। আশপাশের এনসিআর এলাকাতেও দূষণের মাত্রা বেশি ছিল।
দিল্লির ৫৯টি নজরকেন্দ্রের মধ্যে ২২টিতে বাতাস ছিল ‘ভয়াবহ’, ৩২টিতে ‘খুব খারাপ’ এবং পাঁচটিতে ‘খারাপ’। সবচেয়ে বেশি একিউআই নথিবদ্ধ হয়েছে আইআইটি দিল্লি এলাকায় ৪৫৮। জাহাঙ্গীরপুরী ও পাঞ্জাবি বাগে ছিল ৪৪৮ করে, আর মুন্ডকায় ৪৩৯। গড় সূচক ‘খুব খারাপ’ শ্রেণিতে (৩০১ থেকে ৪০০) থাকলেও এটি ‘ভয়াবহ’ শ্রেণির সীমার কাছাকাছি। এর আগে এর চেয়ে বেশি, ৩৭৮ ছিল ২০ জানুয়ারি, অর্থাৎ ২৮৮ দিন আগে। ২ নভেম্বর, সোমবার, গড় সূচক ৩২৪ ছুঁয়ে মরসুমে প্রথমবার ‘খুব খারাপ’ শ্রেণিতে ঢোকার পরেই এনসিআর জুড়ে গ্র্যাডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের (গ্র্যাপ) দ্বিতীয় ধাপের বিধিনিষেধ চালু হয়েছে।
দূষণের উৎস ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
দিল্লির বায়ুদূষণ সাধারণত শীতের শুরুতে বাড়ে। তাপমাত্রা নামার সঙ্গে বাতাসের গতি কমে। ঠান্ডা ও ঘন বাতাসের মধ্যে যানবাহন, নির্মাণকাজ, শিল্প এবং খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়া আটকে থাকে। ফলে দূষিত কণা সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। এবারও দূষণের একাধিক উৎস একসঙ্গে কাজ করছে।
পৃথিবীবিজ্ঞান মন্ত্রকের অধীন বায়ুমান-সংক্রান্ত ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেমের হিসাব অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর দিল্লির দূষণে যানবাহনের অবদান ছিল ১৫.৫ শতাংশ। খড় পোড়ানোর অবদান ছিল ২০.২ শতাংশ। এই হিসাব নির্দিষ্ট সময় ও মডেলভিত্তিক; দিনের মধ্যে উৎসভেদে দূষণের ভাগ বদলাতে পারে। তাই শুধু একটি উৎসকে দায়ী করলে সমস্যার পূর্ণ ছবি পাওয়া যাবে না।
দিল্লির বাতাসে স্থানীয় দূষণের সঙ্গে বাইরের উৎসও যোগ হয়। যানবাহন ও নির্মাণকাজের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্যের কৃষিজমিতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ধোঁয়া বাতাসের সঙ্গে শহরে ঢুকতে পারে। উপগ্রহ-তথ্য অনুযায়ী ৪ নভেম্বর ছ’টি রাজ্যে মোট ৪৬৭টি খড় পোড়ানোর ঘটনা ধরা পড়েছে। পাঞ্জাবে ১৫১, হরিয়ানায় ১০, উত্তরপ্রদেশে ৩৩, রাজস্থানে ১১১, উত্তরাখণ্ডে ৫ এবং মধ্যপ্রদেশে ১৫৭। দিল্লিতে এমন কোনও ঘটনা ধরা পড়েনি। উৎসগুলির অবদান আবহাওয়া, বাতাসের দিক ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে বদলায়।
দিল্লি এবং আশপাশের শহরে দূষণ বাড়লে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত মানুষ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। বাতাসে সূক্ষ্ম কণার মাত্রা বাড়লে চোখ ও গলায় জ্বালা, কাশি কিংবা শ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে। দূষণ কয়েক দিন স্থায়ী হলে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
পূর্বাভাস ও করণীয়
পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিল্লির বাতাস কয়েক দিন ‘খুব খারাপ’ স্তরে থাকতে পারে; ৬ ও ৭ নভেম্বর পরিস্থিতি ‘ভয়াবহ’ পর্যায়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এই পূর্বাভাস এসেছে দীপাবলির ঠিক আগে। ৮ নভেম্বর দীপাবলি। সুপ্রিম কোর্ট ৭ ও ৮ নভেম্বর দিল্লি-এনসিআরে নির্দিষ্ট সময়ে সবুজ বাজি ফাটানোর অনুমতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেও পরিস্থিতিতে বিশেষ উন্নতি নেই। জাহাঙ্গীরপুরীতে একিউআই ছিল ৪৫৯, আর শহরের বেশ কিছু এলাকা ‘ভয়াবহ’ শ্রেণিতেই ছিল।
তবে দূষণের পূর্বাভাস বদলাতে পারে। বাতাসের গতি বা দিক বদলালে দূষণের মাত্রাতেও দ্রুত পরিবর্তন হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পরিবহণ, নির্মাণ, বর্জ্য পোড়ানো এবং আশপাশের রাজ্যের কৃষিজমির ধোঁয়া, সব কটি ক্ষেত্রেই সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।