টানা ৬ ঘণ্টা ধরে শক্তিশালী ল্যান্ডফল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালাল ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশের ইয়ানাম উপকূলে এই ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শেষ হলেও, ঝড়ের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছে উপকূলবর্তী একাধিক এলাকা। অন্ধ্রপ্রদেশ প্রশাসন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি আঘাতে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গাছ চাপা পড়ে এবং ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারে তড়িদাহত হয়েই মূলত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লি, কাঁকিনাড়া, কোনাসীমা এবং ওয়েস্ট গোদাবরী জেলা থেকে মৃত্যুর খবর মিলেছে।

অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে রাজ্যের ৭১৪টিরও বেশি গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির তাণ্ডবে বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যজুড়ে এনডিআরএফ (NDRF)-এর ৩৯টি টিম এবং এসডিআরএফ (SDRF)-এর ৮০টি টিম উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ইনস্পেক্টর জেনারেল নরেন্দ্রসিং বুন্দেলা জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত গতিতে গাছ সরানোর ও অবরুদ্ধ রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ওডিশাতেও ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। ওডিশার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন, রাজ্যের পশ্চিমের প্রায় সমস্ত জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে মালকানগিরির অবস্থা সবচেয়ে উদ্বেগজনক। গজপতি জেলার মোহনা এলাকায় ঝড়ের দাপটে গুন্ডারিগুড়া সেতুর গার্ড ওয়াল ভেঙে পড়ে যাতায়াত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া গোপালপুর সৈকতে সমুদ্র মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে।

অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রত্যক্ষ প্রভাব বাংলায় না পড়লেও, এর পরোক্ষ প্রভাবে পূর্ব মেদিনীপুরসহ রাজ্যজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে দিঘা, তাজপুর ও মন্দারমণিসহ সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে পুলিশ ও প্রশাসনের তরফ থেকে মাইকিং চালানো হচ্ছে। পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে সতর্ক নজরদারি রাখা হচ্ছে।