বক্সা ব্যঘ্র প্রকল্প (BTR) থেকে সীমানা পেরিয়ে অসমে পাড়ি দেওয়া তিন বছর বয়সি বাঘিনি (বিটিআর টিএফ–১)-র রহস্যজনক অন্তর্ধানে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে বাংলা ও অসমের বন মহলে। গত বুধবার রাত ১০টার পর থেকে ওই বাঘিনির রেডিয়ো কলারের সমস্ত সিগন্যাল আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন তার যোগাযোগ। এই জরুরি পরিস্থিতিতে হারিয়ে যাওয়া বাঘিনির সন্ধানে আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) অসমের কচুগাঁওয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী।

বন দপ্তর সূত্রে খবর, বুধবার শেষ পাওয়া স্যাটেলাইট সিগন্যাল অনুযায়ী বাঘিনিটি অসমের রাজেন্দ্রপুর ছেড়ে রাইমোনা টাইগার রিজার্ভ সংলগ্ন হাতিগড় বনবস্তিতে অবস্থান করছিল। কিন্তু তার পর থেকেই স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত হাই–ফ্রিকোয়েন্সি সিগন্যাল এবং সু-প্রশিক্ষিত গ্রাউন্ড স্টাফদের অ্যান্টেনা ট্র্যাকিং— উভয় পদ্ধতিতেই বাঘিনির কোনো খোঁজ মিলছে না। অসম বন দপ্তরের কচুগাঁও বিভাগের ডিএফও মুস্তাফা আলি জানান, সিগন্যাল না মেলায় লোকালয়ে মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাতের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে প্রাথমিক ধারণা, জাকাতি নদী পার করে বাঘিনিটি রাই মোনার কোনো ঘন ‘শ্যাডো জোনে’ গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে, যেখানে ঘন গাছের কারণে সিগন্যাল পৌঁছায় না।

পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনা করে পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের বনকর্তারা সার্বক্ষণিক অসমের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি নিজে আগামী কাল শনিবার কচুগাঁও যাবেন এবং প্রয়োজন পড়লে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে রাইমোনা টাইগার রিজার্ভেও পৌঁছাবেন। বর্তমানে দুই রাজ্যের বনকর্মীরা যৌথভাবে এলাকা সংলগ্ন ঘন জঙ্গল ও নদীর পাড়ে মরিয়া তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন।