ঘটনাটি বাংলাদেশের। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক বন্দির পেট থেকে অস্ত্রোপচার করে অর্ধশতাধিক গ্যাস লাইটার, কয়েকটি নেইল কাটার ও স্ক্রু বের করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম বাংলানিউজ২৪ কারা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, বন্দির নাম হাসমত আলী। বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। কারা সূত্র বলছে, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন ভালো। চিকিৎসকেরা তাঁকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

ঢাকার কাছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন হাসমত। তীব্র পেটব্যথা নিয়ে তাঁকে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক্স-রে পরীক্ষায় তাঁর পেটে ধাতবসহ নানা বস্তু ধরা পড়ে। কারা সূত্রের দাবি, গত তিন মাসে তিনি লাইটার, নেইল কাটার, স্ক্রু, ইটের টুকরো, মাটি, গাছের পাতা ও লোহার তারসহ বিভিন্ন জিনিস গিলেছেন।

কারা সূত্র জানিয়েছে, এরপর তাঁর পেটব্যথা বাড়তে থাকে। কিছু খেলেই বমি হত, জল ছাড়া কিছুই খেতে পারছিলেন না। কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসমত তাঁদের বলেছেন, তিনি নিজের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যেই এসব জিনিস গিলেছিলেন।

৪৪ বছর বয়সী হাসমতের বাড়ি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার রামদেবপুর গ্রামে। নিজের বাবাকে খুনের দায়ে আদালত তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন। জেলে তিনি সাফাইকর্মীর কাজ করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, কাজের সময় জেলের ভেতর থেকেই তিনি জিনিসগুলি জোগাড় করেছিলেন।

কারা সূত্র আরও জানিয়েছে, বাবাকে খুনের পর থেকে হাসমত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। আগে তাঁর মধ্যে মানসিক সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে কারা কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিল। সরকারি নথিতে তাঁর রোগের নাম লেখা হয়েছে ‘Acute Abdominal with Epigastric Mass’।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মহম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ঢাকার বাইরের কোনো জেল থেকে বন্দিকে সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হলে ভর্তি ও নিরাপত্তার আনুষ্ঠানিকতা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সামলায়। সেই নিয়মেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাসমতের পাহারায় আছেন এই কারাগারের রক্ষীরা।

কারা সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসকেরা বড় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের কথা বলার পর হাসমতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সূত্রটির দাবি, পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে খোঁজ নিতে আগ্রহ দেখাননি। পরে কারা কর্তৃপক্ষ অস্ত্রোপচারের অনুমতি ও খরচের দায়িত্ব নেয় এবং তাদের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার হয়।